লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরে শুক্রবার ভোরে ইসরাইল হামলা চালিয়েছে। এ সময় হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকা থেকে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
বার্তাসংস্থা এএফপির টিভি ফুটেজে দেখা যায়, হামলার পর এলাকা থেকে ধোঁয়া উড়ছে।
লেবাননের সরকারি ন্যাশনাল নিউজ অ্যাজেন্সি জানায়, ‘শত্রু বিমান’ ভোরে দক্ষিণ উপশহরের তাহৌইতেত আল-কাদির এলাকায় হামলা চালায়।
ঘনবসতিপূর্ণ এ এলাকা সঙ্ঘাত শুরুর পর থেকে অনেকটাই জনশূন্য হয়ে গেছে। হতাহতের কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
কয়েক ঘণ্টা পর ইসরাইলি সামরিক মুখপাত্র আভিচাই আদ্রাই দক্ষিণ লেবাননের সেজুদ গ্রামের বাসিন্দাদের জাহরানি নদীর উত্তরে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আসন্ন হামলার সতর্কতা দেন।
গত ২ মার্চ তেহরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইসরাইলের দিকে রকেট ছোড়া শুরু করলে লেবানন এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
এরপর থেকে লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। বিশেষ করে হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোতে বোমাবর্ষণ করছে। দক্ষিণ লেবাননে একটি বাফার জোন গড়তে স্থল সেনাও মোতায়েন করেছে।
শুক্রবার ভোরেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে হিজবুল্লাহ।
বৃহস্পতিবার লেবাননের সরকারি গণমাধ্যম জানায়, দেশটির দক্ষিণে ইসরাইলি হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। একই দিন হিজবুল্লাহ দাবি করে, তারা লেবাননের ভেতরে ও সীমান্ত পেরিয়ে ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে ৯০টির বেশি হামলা চালিয়েছে।
এছাড়া বৃহস্পতিবার ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, দক্ষিণ লেবাননে তাদের দুই সেনা নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ইসরাইলের জরুরি সেবা সংস্থা জানায়, লেবানন থেকে ছোড়া একটি রকেটে ইসরাইলের উত্তরে নাহারিয়া এলাকায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
লেবানন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে এক হাজার ১১৬ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১২১ জন শিশু। এছাড়া বাস্তুচ্যুত হয়েছে ১০ লক্ষাধিক মানুষ।
সূত্র: বাসস



