ভেনিজুয়েলার ‘অবৈধ’ তেল

ভারত মহাসাগরে আরো একটি ট্যাঙ্কারে মার্কিন বাহিনীর অভিযান

ভেনেজুয়েলা থেকে অবৈধ তেল সরবরাহের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ক্যারিবীয় সাগর থেকে জাহাজটিকে অনুসরণ করে মার্কিন বাহিনী। এরপর ভারত মহাসাগরে এসে সেটিতে চড়ে তারা।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
পেন্টাগন
পেন্টাগন |ফাইল ছবি

ভারত মহাসাগরে আরো একটি নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেলবাহী ট্যাঙ্কারে অভিযান চালিয়ে সেটির দখল নিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

স্থানীয় সময় রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) পেন্টাগন জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলা থেকে অবৈধ তেল সরবরাহের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ক্যারিবীয় সাগর থেকে জাহাজটিকে অনুসরণ করে মার্কিন বাহিনী। এরপর ভারত মহাসাগরে এসে সেটিতে চড়ে তারা।

ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর কয়েক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে (সাপ্লাই চেইন) অপরিশোধিত তেল পাচারের জন্য দেশটি নকল পতাকাবাহী ট্যাঙ্কারের একটি ‘ছায়া নৌবহরের’ ওপর নির্ভর করে আসছিল।

গত ডিসেম্বরে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ট্যাঙ্কারগুলোর ওপর অবরোধ জারি করার নির্দেশ দেন। পরে জানুয়ারিতে এক মার্কিন সামরিক অভিযানে মাদুরোকে আটক করা হয়।

অভিযানের পর ভেনেজুয়েলার উপকূল ছেড়ে কয়েকটি ট্যাঙ্কার পালিয়ে যায়, যার মধ্যে ভারত মহাসাগরে রাতভর যে জাহাজটিতে অভিযান চালানো হয় সেটিও ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক পোস্টে জানায়, মার্কিন বাহিনী ভেরোনিকা-৩ নামের জাহাজটিতে আরোহন করে ‘রাইট-অব-ভিজিট, সামুদ্রিক বাধা প্রদান ও তল্লাশি অভিযান’ পরিচালনা করেছে।

পেন্টাগন জানায়, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জারি করা অবরোধ অমান্য জাহাজটি পালানোর চেষ্টা করছিল। আমরা এটিকে ক্যারিবীয় সাগর থেকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত অনুসরণ করেছি, দূরত্ব কমিয়ে এনে শেষ পর্যন্ত এটিকে থামাতেও পেরেছি।’

পেন্টাগনের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, মার্কিন সেনারা ট্যাঙ্কারটিতে আরোহন করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দফতরের (ওএফএসি) ওয়েবসাইটের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভেরোনিকা-৩ একটি পানামা নিবন্ধিত জাহাজ, যা ইরান-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।

তবে পানামা মেরিটাইম অথরিটি রোববার এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানায়, জাহাজটি আর তাদের নিবন্ধনে নেই। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেই এর নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে।

ট্রাঙ্কারট্র্যাকার ডটকম রোববার এক্সে জানায়, গত ৩ জানুয়ারি মাদুরোকে আটক করার দিন ভেনেজুয়েলা ত্যাগ করে ভেরোনিকা-৩। জাহাজটিতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি তেল ছিল।

২০২৩ সাল থেকে জাহাজটি রাশিয়া, ইরান ও ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহনের সাথে জড়িত বলে জানায় সংস্থাটি।

ট্রাঙ্কারট্র্যাকার ডটকমের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সামির মাদানি জানুয়ারিতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বলেছিলেন, তাদের সংস্থা স্যাটেলাইট চিত্র ও ভূপৃষ্ঠের ছবি ব্যবহার করে নথিভুক্ত করেছে যে, অবরোধ অমান্য করে অন্তত ১৬টি ট্যাঙ্কার ভেনেজুয়েলা উপকূল ছেড়ে গেছে।

ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিভিন্ন ট্যাঙ্কার জব্দ করে আসছে।

পেন্টাগন তাদের পোস্টে উল্লেখ করেনি যে ভেরোনিকা-৩ আনুষ্ঠানিকভাবে জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়েছে কি না। পরে এক ইমেইলে এপিকে জানায়, পোস্টে যা বলা হয়েছে তার বাইরে তাদের কাছে দেয়ার মতো অতিরিক্ত কোনো তথ্য নেই।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভারত মহাসাগরে আরেকটি ট্যাঙ্কারে, আকিলা-২ অভিযান চালায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, জাহাজটির চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে তা নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত সেটিকে আটকে রাখা হবে।

সূত্র : এপি/ইউএনবি