ভেনিজুয়েলায় ২ শতাধিক রাজনৈতিক বন্দী মুক্তির দাবিতে অনশন শুরু করেছেন। নতুন ক্ষমা আইন থেকে তাদের অনেককে বাদ দেয়ায় তারা এ কর্মসূচি নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দেশটির কংগ্রেসে ক্ষমা আইনটি পাস হয়। ৩ জানুয়ারি সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত ও আটক করার পর যুক্তরাষ্ট্রের উৎসাহে একগুচ্ছ সংস্কারের অংশ হিসেবে এ আইন আনা হয়।
কারাকাসের উপকণ্ঠে অবস্থিত রোদেও-১ কারাগারে শুক্রবার রাতে অনশন শুরু হয়। বন্দীদের অভিযোগ, সামরিক সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো আইন থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। অথচ এ কারাগারে এমন মামলাই বেশি।
বন্দী নাহুয়েল আগুস্তিন গালোর শাশুড়ি ইয়ালিতজা গার্সিয়া বলেন, ‘ভেনিজুয়েলান ও বিদেশীসহ মোট প্রায় ২১৪ জন অনশনে রয়েছেন।’ গালো একজন আর্জেন্টাইন পুলিশ কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের অভিযোগও ক্ষমা আইনের বাইরে রাখা হয়েছে।
২০২৪ সালে গ্রেফতার হওয়া একজন পুলিশ কর্মকর্তার মেয়ে শাকিরা ইবারেত্তো বলেন, ‘ক্ষমা আইনের পরিধিতে তাদের অনেককেই বাদ দেয়া হয়েছে, যে কারণে তারা শুক্রবার অনশনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
রোববার ইন্টারন্যাশনাল রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি)-এর একটি দল রোদেও-১ কারাগার পরিদর্শন করে। ভেনিজুয়েলায় সংস্থাটির স্বাস্থ্য সমন্বয়ক ফিলিপ্পো গাত্তি বন্দীদের স্বজনদের বলেন, ‘এই প্রথম আমাদের ওই কারাগারে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এটি একটি প্রথম পদক্ষেপ। আমরা সঠিক পথে আছি বলে মনে করি।’
স্বজনরা জানান, কারাগারের সব বন্দী অনশনে অংশ নেননি।
অন্তর্বর্তী নেতা ডেলসি রদ্রিগেজ ওয়াশিংটনের চাপে ক্ষমা আইনটি প্রণয়ন করেন। ৩ জানুয়ারি মার্কিন কমান্ডো বাহিনী ভেনিজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায়। তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগে বিচার চলছে।
বিরোধী নেতারা নতুন আইনটির সমালোচনা করেছেন। তাদের দাবি, আগের মতোই কিছু অপরাধের ধারা রাখা হয়েছে, যা দিয়ে মাদুরোর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের টার্গেট করা হতো।
আইনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বিদেশী শক্তির মাধ্যমে ভেনিজুয়েলার সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ‘সশস্ত্র বা বলপ্রয়োগমূলক কর্মকাণ্ড উৎসাহিত বা সহায়তা’ করার অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে ক্ষমা প্রযোজ্য হবে না।
রড্রিগজ এমন অভিযোগ এনেছেন বিরোধী নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া করিনা মাচাদোর বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং ভবিষ্যতে ভেনিজুয়েলায় ফেরার আশা প্রকাশ করেছেন।
আইন অনুযায়ী, সরকার যাদের কর্মকাণ্ডকে সন্ত্রাসবাদ হিসেবে বিবেচনা করেছে, সে-সংক্রান্ত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও ক্ষমার বাইরে থাকবেন।
তবে প্রায় তিন দশকে প্যারোলে মুক্তি পাওয়া বা গৃহবন্দী থাকা ১১ হাজার রাজনৈতিক বন্দীর ক্ষেত্রে এ ক্ষমা প্রযোজ্য হবে।
দেশটির আইনসভার প্রধান শনিবার জানান, ইতোমধ্যে দেড় হাজারের বেশি রাজনৈতিক বন্দী ক্ষমা আইনের আওতায় আবেদন করেছেন।
ক্ষমা আইন পাসের আগেই রদ্রিগেজ সরকারের উদ্যোগে শত শত বন্দিকে মুক্তি দেয়া হয়েছিল।
রোববার রোদেও-১ কারাগার থেকে পাঁচজনকে মুক্তি দেয়া হয়। হাতে মুক্তির কাগজ নিয়ে বের হওয়া তাদের স্বাগত জানানো হয়।
রাজনৈতিক বন্দীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা এনজিও ফোরো প্যানেল জানিয়েছে, রোববার ২৩ জনকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।
মাদুরো মার্চ ২০১৩ থেকে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ভেনিজুয়েলা শাসন করেন। কঠোর বামপন্থী শাসনে তিনি বিরোধী ও অধিকারকর্মীদের দমন করেন।
৬৩ বছর বয়সী মাদুরো ও তার স্ত্রী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন। মাদক পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি নিজেকে যুদ্ধবন্দী বলে দাবি করেছেন।
সূত্র : বাসস



