৫৪ বছর পর ৪ নভোচারী নিয়ে চাঁদের পথে আর্টেমিস-২

স্থানীয় সময় সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ৩৫ মিনিটে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণের সময় প্রচণ্ড গর্জনে আকাশ কাঁপিয়ে দেয় বিশাল কমলা-সাদা রঙের রকেটটি। এতে থাকা চার নভোচারীর তিনজন মার্কিন ও একজন কানাডিয়ান।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
নাসার ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের অংশ হিসেবে ‘ওরিয়ন’ ক্যাপসুলে চাঁদের পথে রওনা হন চার নভোচারী
নাসার ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের অংশ হিসেবে ‘ওরিয়ন’ ক্যাপসুলে চাঁদের পথে রওনা হন চার নভোচারী |সংগৃহীত

প্রায় ৫৪ বছর পর আবার চাঁদের পথে পা বাড়িয়েছে মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল) মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের চার নভোচারী কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ‘ওরিয়ন’ ক্যাপসুলে চড়ে এ ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু করেন।

স্থানীয় সময় সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ৩৫ মিনিটে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণের সময় প্রচণ্ড গর্জনে আকাশ কাঁপিয়ে দেয় বিশাল কমলা-সাদা রঙের রকেটটি। এতে থাকা চার নভোচারীর তিনজন মার্কিন ও একজন কানাডিয়ান।

সর্বশেষ চাঁদে নভোচারী গিয়েছিল ১৯৭২ সালে। ওই সময় নাসার অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর এবার প্রথম কোনো মানুষ চাঁদের পথে রওনা হলেন। একে চাঁদে আর মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Nasa-------2

আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী

মাইলফলক অর্জিত হলো। আর্টেমিস-২ মিশনের উৎক্ষেপণের আগে চূড়ান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় নভোচারীরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। এসময় কানাডিয়ান নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন বলেন, ‘আমরা সমগ্র মানবজাতির জন্য যাচ্ছি।’

এরপর আর্টেমিস মিশনের লঞ্চ ডিরেক্টর চার্লি ব্ল্যাকওয়েল-থম্পসন সরাসরি নভোচারীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ‘রিড, ভিক্টর, ক্রিস্টিনা এবং জেরেমি—এই ঐতিহাসিক মিশনে আপনারা সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছেন আর্টেমিস দলের হৃদয়, বিশ্বজুড়ে আমাদের অংশীদারদের সমর্থন এবং নতুন প্রজন্মের আশা-স্বপ্ন। শুভকামনা। ঈশ্বর আপনাদের সহায় হোন। এগিয়ে চলুক আর্টেমিস-২।’

নাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্যাপসুলটি প্রায় ১৫ ফুট চওড়া ও ৯ ফুট উঁচু। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ ক্যাপসুল কক্ষপথে পৌঁছাবে। সেখানে নভোচারীরা নানা পরীক্ষা–নিরীক্ষা করবেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এটি চাঁদে যাওয়ার জন্য সবুজ সংকেত পাবে।

আর্টেমিস-২ মিশনে চাঁদের পথে পা বাড়ানো চার নভোচারী হলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রিড উইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কক এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন।

প্রথম ধাপে মহাকাশযানটির নির্ভরযোগ্যতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে, কারণ এটি আগে কখনও মানুষ বহন করেনি। এরপর তারা প্রায় ১০ দিনের অভিযানে চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করবেন, যদিও সেখানে অবতরণ করবেন না।

এ ছাড়াও ডকিং সিমুলেশনের সময় মহাকাশযানটির ম্যানুয়াল নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতাও পরীক্ষা করা হবে।

সূত্র : আল জাজিরা, রয়টার্স, বিবিসি।