নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতারের পর বৃহস্পতিবার দ্বিতীয়বারের মতো নিউইয়র্কের একটি আদালতে হাজির করা হবে।
৬৩ বছর বয়সী মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস প্রায় তিন মাস ধরে ব্রুকলিনের একটি কারাগারে আটক রয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে কারাকাসে তাদের বাসভবন থেকে মার্কিন কমান্ডোরা রাতে এক অভিযানে তাদের আটক করে।
এই অভিযানে ২০১৩ সাল থেকে ভেনিজুয়েলার ক্ষমতায় থাকা মাদুরোর পতন ঘটে। এরপর থেকে তেলসমৃদ্ধ দেশটি অনেকটাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাবের মুখে পড়ে।
মাদুরো নিজেকে ‘যুদ্ধবন্দী’ দাবি করেছেন। তিনি চারটি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অভিযোগগুলো হলো- ‘নার্কো-সন্ত্রাসবাদে’ ষড়যন্ত্র, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র, মেশিনগান ও বিধ্বংসী অস্ত্র এবং এসব অস্ত্র রাখার ষড়যন্ত্র।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় শুনানিতে মাদুরো তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা খারিজের আবেদন জানাতে পারেন। একইসাথে তার আইনজীবীদের পারিশ্রমিক কে দেবে, তা নিয়েও আইনি লড়াই চলবে।
মাদুরোর আইনজীবীর খরচ বহন করতে চায় ভেনিজুয়েলা সরকার। তবে ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞার কারণে তার আইনজীবী ব্যারি পোলাককে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি নিতে হচ্ছে, তবে সে অনুমোদন এখনো দেয়া হয়নি।
পোলাক আদালতে দেয়া আবেদনে বলেন, এই অনুমতির শর্ত মাদুরোর সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। প্রক্রিয়াগত কারণে মামলাটি খারিজের দাবি জানান তিনি।
ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে আটক আছেন মাদুরো। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের জন্য পরিচিত এই ফেডারেল কারাগারে তিনি একটি কক্ষে একাই আছেন। ইন্টারনেট বা সংবাদপত্র ব্যবহারের সুযোগ নেই।
ভেনিজুয়েলা সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, কারাবন্দী অবস্থায় মাদুরো বাইবেল পড়ছেন। সহবন্দীদের কেউ কেউ তাকে ‘প্রেসিডেন্ট’ বলে সম্বোধন করেন। তিনি শুধু পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সাথে ফোনে কথা বলতে পারেন। প্রতিবার সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট কথা বলার সুযোগ পান।
মাদুরোর ছেলে নিকোলাস মাদুরো গুয়েরা বলেন, ‘আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তিনি শক্ত আছেন। আমাদের দুঃখিত না হতে বলেছেন।’ তিনি জানান, তার বাবা বলেছেন, ‘আমরা ভালো আছি। আমরা যোদ্ধা।’
গত ৩ জানুয়ারি ভোরে কারাকাসে বিমান হামলা ও নৌবাহিনীর ব্যাপক মোতায়েনের সহায়তায় মার্কিন কমান্ডোরা মাদুরো ও তার স্ত্রীকে জোর করে তুলে নিয়ে আসে।
ভেনিজুয়েলার কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ওই অভিযানে কমপক্ষে ৮৩ জন নিহত এবং ১১২ জনের বেশি আহত হন। কোনো মার্কিন সেনা নিহত হয়নি।
জানুয়ারিতে প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে হাজির হয়ে মাদুরো নিজেকে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট বলে দাবি করেন।
বর্তমানে দেশটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডেলসি রদ্রিগেজ, যিনি ২০১৮ সাল থেকে মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেলের মজুদ থাকা সত্ত্বেও সঙ্কটাপন্ন অর্থনীতি নিয়ে দেশ পরিচালনা করছেন তিনি।
রদ্রিগেজ ইতোমধ্যে রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির জন্য একটি ঐতিহাসিক সাধারণ ক্ষমা আইন জারি করেছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের দাবির সাথে সামঞ্জস্য রেখে তেল ও খনিজ খাতের নীতিমালাও সংস্কার করেছেন।
এই মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, ভেনিজুয়েলার সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করা হচ্ছে। এতে দুই দেশের সম্পর্ক উষ্ণ হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
বৃহস্পতিবারের শুনানিকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কের আদালত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হতে পারে।
মামলাটির বিচারক ৯২ বছর বয়সী অ্যালভিন হেলারস্টেইন। দীর্ঘ বিচারিক জীবনে তিনি বেশ কয়েকটি আলোচিত মামলার শুনানি করেছেন।
সূত্র: বাসস



