মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার জানিয়েছেন, ইরানের তেল কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের সামরিক স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক বোমা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একইসাথে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকে মার্কিন নৌবাহিনী শিগগিরই পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়া শুরু করবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি। খরব বার্তা সংস্থা এএফপির।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, খার্গ দ্বীপ থেকে ইরানের প্রায় সব অপরিশোধিত তেল রফতানি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এ দ্বীপের সামরিক স্থাপনাগুলোকে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী বোমা হামলায় ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ করে দেয়া হয়েছে।
তবে, আপাতত দ্বীপের তেল অবকাঠামোতে হামলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ‘যদি ইরান বা অন্য কেউ যদি হরমুজে জাহাজ চলাচলে বাধা দেয় তবে সেই সিদ্ধান্ত বদলানো হবে।’
তেলের দাম বাড়তে থাকায় ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, কবে থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী ট্যাংকারগুলোকে মার্কিন নৌবাহিনী নিরাপত্তা দেবে।
জবাবে তিনি বলেন, ‘শিগগিরই হবে, খুব শিগগিরই।’
ইরানের হামলার কারণে বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এতদিন খার্গ দ্বীপের বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে থাকলেও, এখন দ্বীপটিকে দখল করার বিষয়টি মার্কিন কর্মকর্তাদের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও নিউ ইয়র্ক টাইমস শুক্রবার জানিয়েছে, পেন্টাগন উভচর যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’কে প্রায় আড়াই হাজার মেরিন সেনাসহ এই অঞ্চলে পাঠিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অভিযানের শুরুতে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হলেও, ইরান সরকার দেখাতে চায় যে তারা এখনো অক্ষত ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হলেও, তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি এবং তিনি আহত বলে শোনা যাচ্ছে। মার্কিন সরকার মোজতবা খামেনির অবস্থান সম্পর্কে তথ্যের জন্য এক কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে।
এই সঙ্ঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৪২ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং শুক্রবারও তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের ওপরে ছিল। এর ফলে সব দেশের সরকার জ্বালানি সরবরাহ ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।
জাতিসঙ্ঘের শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের ভেতরে প্রায় ৩২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী- এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধে ১ হাজার ২ শ’র বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
এএফপি এ সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
অন্যদিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মার্কিন সামরিক বাহিনীর ১৩ জন সদস্য মারা গেছে।



