চীনে সামুদ্রিক ভাইরাস, ‘কোভার্ট মর্টালিটি নোডাভাইরাস’ থেকে মানুষের চোখে সংক্রমণ ঘটার খবর পাওয়া গেছে। এই ভাইরাসের সংক্রমণের ‘পারসিস্টেন্ট অকুলার হাইপারটেনশন ভাইরাল অ্যান্টিরিয়র ইউভাইটিস’ বা সংক্ষেপে পিওএইচ-ভিউ নামের একটি চোখের রোগ দেশটির একদল মানুষের মধ্যে অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। সাধারণত চোখের রোগ গ্লুকোমা হলে যেসব উপসর্গ দেখা যায়, এই ভাইরাসের আক্রমণেও ঠিক তেমনই লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, জলজ প্রাণীর ভাইরাস সরাসরি মানুষের শরীরে ঢুকে রোগ সৃষ্টি করার ঘটনা এই প্রথম। ব্রিটেনের খ্যাতনামা বিজ্ঞান সাপ্তাহিক নিউ সায়েন্টিস্টের চলতি সংখ্যার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এডওয়ার্ড হোমস এ ঘটনাকে বেশ আশ্চর্যজনক বলে উল্লেখ করেছেন। কারণ এই ভাইরাসটি একইসাথে মেরুদণ্ডহীন প্রাণী, মাছ এবং স্তন্যপায়ী প্রাণীদের আক্রমণ করতে পারে।
চীনে গত কয়েক বছরে ‘পারসিস্টেন্ট অকুলার হাইপারটেনশন ভাইরাল অ্যান্টিরিয়র ইউভাইটিস’ বা পিওএইচ-ভিউ নামের একটি চোখের সমস্যা অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। এতে চোখের ভেতরে প্রদাহ তৈরি হয় এবং প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়, যা চোখের অপটিক নার্ভের ক্ষতি করে মানুষের দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিতে পারে। এই রহস্যময় রোগের কারণ খুঁজতে গিয়ে চাইনিজ একাডেমি অব ফিশারি সায়েন্সের গবেষকরা ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৭০ জন রোগীকে পরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, ওই ৭০ জনের প্রত্যেকের শরীরেই ‘কোভার্ট মর্টালিটি নোডাভাইরাস’ পাওয়া গেছে। এই ভাইরাস মূলত সামুদ্রিক মাছ ও জলজ প্রাণীর শরীরে পাওয়া যায়। আক্রান্তদের চোখের ফোলা কমানোর ওষুধ দেয়া হলেও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ রোগীর অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে এবং একজন পুরোপুরি অন্ধ হয়ে গেছেন।
গবেষকরা ল্যাবরেটরিতে ইঁদুরের ওপর এই ভাইরাসের পরীক্ষা চালান। তারা দেখতে পান, মাত্র এক মাসের মধ্যে ইঁদুরগুলোর চোখের মণি ও রেটিনায় বড়সড় পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, একই পানপাত্র থেকে পানি ব্যবহার করার ফলে এক ইঁদুর থেকে অন্য ইঁদুরের শরীরে ‘কোভার্ট মর্টালিটি নোডাভাইরাস’ সংক্রমণ ঘটার প্রমাণও পাওয়া গেছে।
আক্রান্ত ৭০ ব্যক্তিরই অর্ধেকই বাড়িতে মাছ বা জলজ প্রাণীর দেখাশোনা করতেন। বাকিদের মধ্যে ১৬ শতাংশ মানুষ হয় কাঁচা মাছ খেতেন অথবা মাছের কারবারের সাথে জড়িতদের সংস্পর্শে এসেছিলেন। মানুষ থেকে মানুষের শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ ঘটার সরাসরি প্রমাণ এখনো মেলেনি। তবে গবেষকরা দেখেছেন যে কোন কোন পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এই রোগ ছড়িয়েছে। বিশেষ করে যারা মাছ কাটাকুটির সময় হাতে আঘাত পেয়েছিলেন, তাদের ব্যবহার করা থালাবাসন বা অন্য জিনিসের মাধ্যমে পরিবারের অন্যরাও আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র : নিউ সায়েন্টিস্ট



