সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউনের মৃত্যুদণ্ডের রায় বিবেচনা করছে আদালত

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে ইউন হঠাৎ করে সামরিক আইন জারি করেন। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি’ নির্মূলে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। ৬৫ বছর বয়সী কট্টর রক্ষণশীল এই নেতা পরে অভিশংসিত হন। পরে তাকে গ্রেফতার করে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ থেকে শুরু করে বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা দেয়াসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল |সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের অভিযোগে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রায় দেবে দেশটির একটি আদালত। সামরিক শাসন জারির ব্যর্থ চেষ্টার জন্য তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে কি-না, তা নিয়েই মূলত বিচার হচ্ছে।

স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় সরাসরি সম্প্রচারে রায় ঘোষণার সময় লাখো মানুষ কার্যত স্থবির হয়ে পড়বেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে ইউন হঠাৎ করে সামরিক আইন জারি করেন। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি’ নির্মূলে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। ৬৫ বছর বয়সী কট্টর রক্ষণশীল এই নেতা পরে অভিশংসিত হন। পরে তাকে গ্রেফতার করে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ থেকে শুরু করে বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা দেয়াসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়।

অভিযোগপত্রে বিদ্রোহের জন্য ইউনের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেন প্রসিকিউটররা। জানুয়ারির শুনানিতে তারা সিউল সেন্ট্রাল ডিসট্রিক্ট কোর্ট ইউনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার আহ্বান জানান।

তবে, দক্ষিণ কোরিয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে অনানুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ রয়েছে। সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় ১৯৯৭ সালে। ফলে মৃত্যুদণ্ড হলে কার্যত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডই হবে ইউনের।

এশিয়ায় স্থিতিশীল গণতন্ত্রের উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ কোরিয়ায় ইউনের ক্ষমতা দখলের চেষ্টা ১৯৬০-৮০ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের স্মৃতি উসকে দেয়।

ইউন একাধিক ফৌজদারি মামলার মোকাবেলা করছেন। তাকে একাকী কারাবাসে রাখা হয়েছে। তবে, তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি, বিরোধী দলের নেতৃত্বাধীন আইনসভা স্বৈরতান্ত্রিক হওয়ায় তিনি এর বিরুদ্ধে সাংবিধানিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও স্বাধীনতা রক্ষায় পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

এদিকে প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেন, দীর্ঘমেয়াদি শাসন ও একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘ক্ষমতার লালসা’ থেকেই ইউন বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন। আর দক্ষিণ কোরিয়ার আইনে বিদ্রোহের অপরাধে দু’টি শাস্তিই প্রযোজ্য— যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা মৃত্যুদণ্ড।

এ বিষয়ে একজন আইন বিশ্লেষক বলেন, আদালত সম্ভবত ইউনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেবে।

আইনজীবী ইউ জুং-হুন এএফপিকে বলেন, ‘বিশেষ ক্ষেত্রে বিচারক ‘বিবেচনাধীন শাস্তি হ্রাস’ করতে পারেন। যদি তারা মনে করেন, আইনে নির্ধারিত ন্যূনতম শাস্তির চেয়ে কম দেয়া যুক্তিসঙ্গত।’

তিনি বলেন, ‘ইউন দোষ স্বীকার করেননি, অনুশোচনাও প্রকাশ করেননি। তাই বিচারকদের পক্ষে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের কম শাস্তি দেয়া কঠিন হবে।’

এরই মধ্যে কম গুরুতর অভিযোগে তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া জ্যেষ্ঠ অনেক কর্মকর্তা দীর্ঘ কারাদণ্ডের মুখে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর গভীর রাতে টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন ইউন। উত্তর কোরিয়ার প্রভাবের অস্পষ্ট হুমকি ও বিপজ্জনক ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির’ কথা তুলে ধরে তিনি বেসামরিক সরকার স্থগিত ও সামরিক শাসন শুরুর ঘোষণা দেন।

সেই ঘোষণার ছয় ঘণ্টা পর জরুরি ভোটে আইনপ্রণেতারা সিদ্ধান্ত নেয়ার পর সামরিক আইন প্রত্যাহার করেন। সশস্ত্র সেনাদের ঠেকাতে সংসদ ভবনের দরজায় অফিসের আসবাবপত্র দিয়ে ব্যারিকেড গড়ে তোলেন কর্মীরা।

তবে, ঘোষণার পরপরই বিক্ষোভ শুরু হয়। শেয়ারবাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক মিত্ররাও বিস্মিত হয়।

এদিকে সাবেক ফার্স্ট লেডি থাকাকালে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে পৃথক এক মামলায় চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতেই ইউনের স্ত্রী কিম কেয়ন হি-কে ২০ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

সূত্র : বাসস