যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র রফতানি স্থগিতের ঘোষণা দিলো সুইজারল্যান্ড

গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ছিল সুইস অস্ত্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম মার্কেট, যার বিক্রির পরিমাণ ছিল ১১৯ মিলিয়ন ডলার।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সুইজারল্যান্ডের অস্ত্র, কিনতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র
সুইজারল্যান্ডের অস্ত্র, কিনতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র |সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র রফতানির জন্য কোনো কোম্পানিকে লাইসেন্স দেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে সুইজারল্যান্ড। দেশটি তার দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষতার নীতির কথা উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শুক্রবার (২০ মার্চ) এক বিবৃতিতে সুইজারল্যান্ডের সরকার বলেছে, ইরানের সাথে আন্তর্জাতিক সশস্ত্র সঙ্ঘাতে জড়িত দেশগুলোতে সঙ্ঘাত চলাকালীন যুদ্ধ সরঞ্জাম রফতানির অনুমোদন দেয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধ সরঞ্জাম রফতানির অনুমোদনও দেয়া হবে না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ তিন সপ্তাহ পূর্তির কাছাকাছি, যা বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক গভীর মানবিক সঙ্কট সৃষ্টি করছে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী করে তুলেছে।

এর আগে ইরান যুদ্ধের সাথে সরাসরি যুক্ত মার্কিন সামরিক বিমানগুলোর জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল সুইস সরকার।

এর আগে ২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ইরাক আগ্রাসনের পরও সুইজারল্যান্ড তার আকাশসীমার ওপর দিয়ে বিমান চলাচল এবং যুদ্ধে জড়িত দেশগুলোতে অস্ত্র রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। যদিও পরে তা তুলে নেয়।

১৯৯৬ সালে অনুমোদিত সুইস ফেডারেল আইন অনুযায়ী, মানবাধিকার ও নিরপেক্ষতার নীতির ওপর ভিত্তি করে যুদ্ধ সরঞ্জাম ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির আমদানি, রফতানি ও ট্রানজিটের জন্য রফতানি লাইসেন্স প্রয়োজন। সেই আইন উল্লেখ করে সুইজারল্যান্ড জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো নতুন রফতানি লাইসেন্স দেয়া হয়নি।

সরকার আরো উল্লেখ করেছে, বেশ কয়েক বছর ধরে ইসরাইলে যুদ্ধ সরঞ্জাম রফতানির জন্যও কোনো চূড়ান্ত লাইসেন্স দেয়া হয়নি এবং একই কথা ইরানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

সুইজারল্যান্ড বলেছে, নিরপেক্ষতা আইনের অধীনে কোনো পদক্ষেপের প্রয়োজন আছে কি-না তা মূল্যায়ন করার জন্য বিদ্যমান মার্কিন লাইসেন্সগুলো এখন বিশেষজ্ঞদের একটি দল দ্বারা নিয়মিত পর্যালোচনার সম্মুখীন হবে। দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য ও নির্দিষ্ট সামরিক সরঞ্জামের রফতানিও বিশেষজ্ঞ দল দ্বারা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে।

সরকার বলেছে, ইসরাইলের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যেই একটি কঠোর নীতি কার্যকর রয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ছিল সুইস অস্ত্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম মার্কেট, যার বিক্রির পরিমাণ ছিল ১১৯ মিলিয়ন ডলার।

সূত্র : আলজাজিরা