দু’টি তেলবাহী জাহাজ নোঙ্গরে দেশে তেলের মজুদ বাড়ছে তবে রেশনিং করে চলতে হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
আজ রোববার দুপুর জাতীয় প্রেস ক্লাবের এক অনুষ্ঠানে জ্বালানি তেলের সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরে তিনি এই তথ্য জানান।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘অলরেডি আজকে বেলা ১১টায় একটা জাহাজ নোঙ্গর নিয়েছে এবং আরেকটা জাহাজ ২টার সময় নঙ্গর নেয়ার কথা। তাহলে এই দুইটা জাহাজ এসে তেল ডেলিভারি করার পরে আমার মজুতটা আরো বাড়বে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে আমরা যাচ্ছে-তাই ভাবে খরচ করব। আমরা রেশনিংটা চালিয়ে যাব। যতদিন যুদ্ধ শেষ না হয় সেই পর্যন্ত।’
কেন তেলের রেশনিং করতে হবে তার ব্যাখ্যা দিয়ে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘এই যুদ্ধ কতদিন চলবে আমরা জানি না। আমার কাছে যে মজুদ আছে, সেই মজুদটা সাশ্রয় করে ব্যবহার করার জন্য জনগণের কাছে আহ্বান জানিয়েছি এবং আমরা রেশনিং শুরু করেছি।’
‘কারণ আমরা কেউ জানি না যুদ্ধ কবে শেষ হবে। সেজন্য সব একবারে খেয়ে শেষ করার চাইতে চলার মতো ব্যবস্থা করে যদি আমরা চলি, তাহলে আমরা দীর্ঘদিন চলতে পারব। সেজন্য গতকালও বলেছি, আমরা তেল মজুদ আছে। কিন্তু রেশনিং করে চলতে হবে। যেসব জাহাজ আটকে গেছে, যেসব জাহাজ মধ্য সমুদ্রে আছে সেগুলো আসতে আসতে যেন আমার এই মজুদে যেন হাত না পড়ে।’
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘মানুষের মধ্যে বিরোধীরা আতঙ্ক ছড়িয়েছে যে আমরা হয়তো এই যুদ্ধের কারণে বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দেবো। আমি আশ্বস্ত করেছি যে আপাতত আমরা বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছি না।’
‘সুতরাং দাম বাড়বে বলে ভয়ে তেল ভরে মজুদ করবেন। এটা ঠিক হবে না। তাই আমি প্রত্যেকটি এখানে যারা উপস্থিত আছো, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের কর্মীরা তাদের কাছে অনুরোধ থাকবে, তোমরা এটি ভালোভাবে প্রচার করো তেলের অভাব নাই। কিন্তু রেশনিংটা চালু রাখতে হবে। আমরা জানি না ওই যুদ্ধ কবে বন্ধ হবে এটা মানুষকে বলতে হবে।’
একই সাথে জ্বালানি তেল যাতে চোরাচালানি কিংবা কালো বাজারে না যায়, সেজন্য নেতা-কর্মীসহ জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বানও জানান জ্বালানিমন্ত্রী।
ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দেশের অর্থনীতির দুরাবস্থা, বিদ্যুৎখাতের ভঙ্গুর অবস্থা তুলে ধরে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘একটা ভঙ্গুর অবস্থা দেনাগ্রস্ত সিস্টেমকে আমরা পেয়েছি। ৭৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া সেই সিস্টেমকে আমরা ইনশা আল্লাহ এখনো ভালো রেখেছি।’
তারেক রহমানের নেতৃত্বে ২০ দিনের সরকারের আমলে রমজানে ইফতার, তারাবিহ ও সাহরির সময়ে বিদ্যুৎতের যাতে লোডশেডিং না হয়, সেজন্য বিশেষ নির্দেশনায় সফলতার কথা বলেন জ্বালানিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান, সাংসদ আমিরুল ইসলাম খান আলিম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, ছাত্র দলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানসহ উত্তরাঞ্চলে ছাত্র ফোরামের নেতারা বক্তব্য রাখেন।



