বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন, রমজান মাসের জন্য পর্যাপ্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত রয়েছে। তিনি মূল্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ফলাফল-ভিত্তিক বাজার ব্যবস্থাপনার দিকে অগ্রযাত্রার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, রমজান মাস ও পরবর্তী সময়ের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত সরকারের হাতে রয়েছে এবং পাইপলাইনেও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে বাজার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
বাজারে ‘সিন্ডিকেট’ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমি ‘সাউন্ড বাইট’ দেবো না। কাজ করে দেখাব। বাজার তদারকি ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, অর্থনীতিকে আরও প্রস্তুত করার লক্ষ্যে এ উত্তরণ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার একটি কৌশল প্রণয়নের কাজ আজ থেকেই শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়ায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-এর মধ্যে সমন্বিত ও নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ উদ্যোগটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু হলেও বাস্তবায়নে ইআরডির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
দেশের রফতানি আয়ের ৫০ শতাংশ এবং বাজারের ২৫ শতাংশ মাত্র একটি পণ্য খাতের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় মন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এই ঝুঁকি কমাতে তিনি রফতানি ঝুড়িতে আরো বৈচিত্র্যময় পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা এবং নতুন আন্তর্জাতিক বাজার খোঁজার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ ও বিনিয়োগ বিষয়ে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ব্যবস্থা ও বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের ভুলের সুযোগ খুব কম। গত ২-৩ বছরের স্থবির বিনিয়োগকে তিনি একটি বড় দায় হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির তাগিদ দেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশীয় ও বিদেশী উভয় বিনিয়োগই স্থিতিশীল পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। দেশকে এগিয়ে নিতে সরকারের প্রচেষ্টায় ভুলত্রুটি চিহ্নিত ও সংশোধনে অংশীদার হিসেবে কাজ করার জন্য তিনি গণমাধ্যম ও জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। বাসস



