চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এনএসইজেড) একটি আধুনিক বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন কারখানা স্থাপনের লক্ষ্যে আজ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং এমইপি হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক লিমিটেডের মধ্যে ভূমি লিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি এনএসইজেডে প্রায় ১০ একর জমিতে একটি অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন ক্লাস্টার বা শিল্প কারখানা স্থাপন করবে। প্রস্তাবিত প্রকল্পে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে, যা সম্পূর্ণ দেশীয় বিনিয়োগ।
শিল্প প্রতিষ্ঠানটিতে বৈদ্যুতিক তার, সুইচ-সকেট, ফ্যান, এলইডি লাইট, সার্কিট ব্রেকারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন করা হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি তাদের বিদ্যমান সুনাম ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশে ও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণ করবে।
বেজার পক্ষে লিজ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন অতিরিক্ত সচিব ও নির্বাহী সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) সালেহ আহমদ এবং এমইপি গ্রুপের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান শকিল আলম চাকলাদার। বেজার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে শুরু হয়ে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ২০২৯ সালের জানুয়ারি থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা করেছে। পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন কার্যক্রম চালু হলে প্রায় দু’ হাজার মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
অনুষ্ঠানে বেজার নির্বাহী সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) সালেহ আহমদ বলেন, এনএসইজেডে এমইপি’র মতো দেশীয় শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ বাংলাদেশে আমদানি নির্ভরতা হ্রাস, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, বেজা বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করে শিল্প স্থাপনে প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে। তিনি বিনিয়োগকারীকে দ্রুত শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য আহ্বান জানান।
এমইপি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম চাকলাদার বলেন, বেজার সহযোগিতায় এনএসইজেডে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশ বান্ধব বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন শিল্প স্থাপন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এমইপি গ্রুপ বাংলাদেশের ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স খাতে অত্যন্ত সুপরিচিত। বর্তমানে সারাদেশে তাদের দু’ হাজারের বেশি করপোরেট গ্রাহক এবং এক হাজারের বেশি ডিস্ট্রিবিউশন পয়েন্ট রয়েছে। তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মোহম্মদী ইলেকট্রিক ওয়্যার, এমইপি ফ্যান, এমইপি পলিমার এবং চাকলাদার শিপিং লাইনস অন্যতম।
জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ১৫টি শিল্প প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং প্রায় ২০টি শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মাণাধীন রয়েছে। সাগরতীরের ২৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যে গড়ে ওঠা দেশের বৃহত্তম এ পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও নগর ব্যবস্থার সকল সুযোগ সুবিধার সমন্বয় ঘটানো হচ্ছে। বাসস



