দোহারের মেয়ে প্রিয়াঙ্কা হলেন মিস জাপান

দোহার (ঢাকা) থেকে সংবাদদাতা
আবারো দেশের মুখ উজ্জ্বল করলেন বাংলাদেশী বশোদ্ভূত কিশোরী প্রিয়াঙ্কা ইউসিকা ঘোষ। এ বছর মিস জাপান-১৬ নির্বাচিত হয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। তার পূর্বপুরুষের বাড়ি ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার মালিকান্দা গ্রামে। গত ৫ সেপ্টেম্বর জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত মিস জাপান-২০১৬ এর সেরা সুন্দরীর স্বীকৃতি পাওয়ায় আনন্দিত মালিকান্দা গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ। প্রিয়াঙ্কার জন্ম জাপানে হলেও তার বাবা অরুণ ঘোষের বেড়ে ওঠা দোহারের মালিকান্দা ঘোষ পরিবারে। 
সূত্র মতে, ১৯৮৫ সালের ২১ আগস্ট অরুণ ঘোষ বাংলাদেশ থেকে জাপানে পাড়ি জমান। সেখানে গিয়ে কয়েক বছর পর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন জাপানি  তরুণী নাউকোর সাথে। ১৯৯৪ সালের ২০ জানুয়ারি এই দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় প্রিয়াঙ্কা ইউসিকা ঘোষ। বিয়ের পর একাধিকবার সপরিবারে দোহারের মালিকান্দা গ্রামে আসেন অরুণ ঘোষ। সবশেষ গেল বছরও পৈতৃকভিটায় এসেছিলেন তিনি। 
স্থানীয়রা জানান, প্রিয়াঙ্কার চাচা মুক্তিযোদ্ধা অজয় ঘোষ ঢাকা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার ছিলেন। বর্তমানে তিনি স্থায়ীভাবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করছেন। সেই সূত্রে ঘোষ পরিবারের বেশির ভাগ সদস্য সেখানেই বসবাস করেন। দোহারের মালিকান্দা গ্রামের বাড়িতে এখন প্রিয়াঙ্কার দাদা অবণী মোহন ঘোষ ও ঠাকুরমার সমাধি ছাড়া আর তেমন কিছু নেই। প্রিয়াঙ্কার বাবা অরুণ তিন ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয়। অন্য দুই ভাইয়ের নাম অজয় ঘোষ ও অমল ঘোষ। তাদের দাদা ডা: প্রফুল্ল ঘোষ ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী। তিনি টানা তিন মেয়াদে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ড. প্রফুল্ল ঘোষের জন্মও দোহারের মালিকান্দা গ্রামেই। তার আমন্ত্রণে ১৯৩৫ সালে ভারতের তৎকালীন বিপ্লবী নেতা মাহাত্মা গান্ধী মালিকান্দা গ্রামে এসেছিলেন এবং এখানে তার নামে একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেন। যেটি আজো তার স্মৃতি বহন করে চলেছে। 
প্রিয়াঙ্কার চাচা অজয় ঘোষ জানান, আমরা জন্ম সূত্রে বাংলাদেশী। সেই কারণে বাংলাদেশে রয়েছে আমাদের পরিবারের শেকড়। প্রিয়াঙ্কার বাবার জন্মও বাংলাদেশে। প্রিয়াঙ্কা পশ্চিমবঙ্গের সুধীর মেমোরিয়াল স্কুলে স্ট্যান্ডার্ড টু ও থ্রি কাসে দুই বছর পড়েছে। এরপর আমেরিকায় পড়াশোনা শেষ করে সে জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। সেখানে সে মডেলিংয়ের সাথে যুক্ত। তারই ধারাবাহিকাতায় এ বছর সে মিস জাপান নির্বাচিত হয়েছে। তার এ অর্জনে আমরা গর্বিত ও আনন্দিত; কিন্তু প্রিয়াঙ্কা বাংলাদেশের কথা তেমনভাবে কিছু বলতে পারবে না।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.