জামায়াতের ৪১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার

সার্বভৌমত্ব, ইনসাফ ও নারী নিরাপত্তাসহ ২৬ বিষয়ে অগ্রাধিকার

‘জামায়াত বিজয়ী হলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী মন্ত্রী থাকবে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক
জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহার অনুষ্ঠান
জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহার অনুষ্ঠান |নয়া দিগন্ত

স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ইনসাফ, প্রযুক্তি, মেধা এবং যুবকদের প্রাধান্য ও নারীদের নিরাপত্তাসহ ২৬ বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে ৪১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘জনতার ইশতেহার’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এ পরিকল্পনা ও কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি।

এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, নারীদের যেন চাকরি না ছাড়তে হয় সেজন্য মায়েদের কর্মঘণ্টা কমানোর কথা বলেছি। অথচ এটা নিয়ে নানা কথা ছড়ানো হলো। আমরা নাকি নারীদের চাকরি করতে দিতে চায়না। আমরা চাই অনেক নারী মা হওয়ার পর চাকরি ছেড়ে দেন, তাদের যেন চাকরি না ছাড়তে হয়, সেজন্য কর্মঘণ্টা শিথিল করার কথা বলেছি। এতে ওই মা চাকরিও করতে পারবেন, আবার সন্তান লালন পালন করতে পারবেন। ওই মায়েদের সন্তানদের জন্য ডে কেয়ার সেন্টার থাকবে। আর বেতনের ক্ষেত্রে ওই মা যত ঘন্টা কাজ করবেন, মালিক ততটুকুর বেতন দিবেন, বাকি সময়ের বেতন দিবে সরকার।

তিনি বলেন, ‘আমরা বেকার ভাতা নয়, যুবকদের হাতে কাজ তুলে দেবো। চা শ্রমিকদের জন্য ইনসাফ করা হবে। একজন চা শ্রমিকের সন্তান যেন একদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘পাহাড়ে অশান্তি দূর করতে চায়। পাহাড়ি-বাঙ্গালি দূরত্ব ও বৈষম্য দূর করতে চায়।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের ইশতেহার হলো জনবান্ধব, ব্যবসা বান্ধব, শান্তি বান্ধব ও শৃঙ্খলা বান্ধব। আমরা বেসরকারি ব্যবসাকে বেশি উৎসাহিত করতে চায়। শিল্প মালিকরা হবেন দেশের আইকন। তাদের আমরা শিশুর মতো যত্ন নেবো।

তিনি বলেন, ‘জামায়াত বিজয়ী হলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী মন্ত্রী থাকবে।’

উল্লেখ্য, আট ভাগে ৪১ দফা ইশতেহার ঘোষণা করছে জামায়াতে ইসলামী। যার মধ্যে ২৬টিকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। এছাড়াও রয়েছে পাঁচটি ‘হ্যাঁ’ ও ছয়টি ‘না’।

ইশতেহারের প্রথমভাগে রয়েছে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষায় একটি বৈষম্যহীন, শক্তিশালী ও মানবিক বাংলাদেশ, দ্বিতীয় ভাগে আত্মনির্ভরতার পথ নিজ পায়ে দাঁড়ানোর প্রত্যয়, তৃতীয়ত ভাগে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ব্যাপকভিত্তিতে কর্মসংস্থান, চতুর্থ ভাগে স্বনির্ভর কৃষি ও প্রকৃতির স্বাভাবিক বিকাশের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন, পঞ্চম ভাগে মানবসম্পদ ও জনজীবনের মৌলিক মানোন্নয়ন, ষষ্ঠ ভাগে সমন্বিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সপ্তম ভাগে যুবকদের নেতৃত্ব প্রযুক্তি বিপ্লব ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ও অষ্টম ভাগ সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র।

ইশতেহারে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে জাতির ভবিষ্যৎ, গণতন্ত্র, সুশাসন ও জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর দৃষ্টিভঙ্গি ও অঙ্গীকার জাতির সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইজহার, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জাগপার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকবৃন্দ, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সিনিয়র সাংবাদিক, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পেশার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা।