মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন

যারা জুলাইকে অস্বীকার করবে জনগণ তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়বে

‘জুলাই বিপ্লব জাতীয় জীবনের উল্লেখযোগ্য অর্জন ও দ্বিতীয় স্বাধীনতা; তাই যারা জুলাইকে অস্বীকার বা কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করবে জনগণ তাদের বিরুদ্ধে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলবে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন

Location :

Dhaka City
রাজধানীর বারিধারাস্থ মহানগরী অফিস চত্বরে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন
রাজধানীর বারিধারাস্থ মহানগরী অফিস চত্বরে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন |নয়া দিগন্ত

জুলাই বিপ্লব জাতীয় জীবনের উল্লেখযোগ্য অর্জন ও দ্বিতীয় স্বাধীনতা; তাই যারা জুলাইকে অস্বীকার বা কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করবে জনগণ তাদের বিরুদ্ধে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাজধানীর বারিধারাস্থ মহানগরী অফিস চত্বরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত মহান স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারি সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ডা: ফখরুদ্দীন মানিক ও মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি মু. আতাউর রহমান সরকার প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে মহানগরী আমির দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।

সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘প্রত্যেক জাতির জন্যই স্বাধীনতা মহামূল্যবান নেয়ামত। সকল মানুষ এবং জাতির কাছে স্বাধীনতা খুই প্রিয় ও আরাধ্য। কিন্তু স্বাধীনতা রক্ষার জন্য প্রত্যেকই আত্মসচেতন হতে হয়; জাতিকে করতে হয় ঐক্যবদ্ধ। এ কাজ করার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু অতীতে শাসকগোষ্ঠী নিজেদের রাজনৈতিক হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ প্রশ্ন তুলে জাতিকে বিভক্ত করেছে। আর বৃহৎ প্রতিবেশী আমাদের দেশকে করদরাজ্য বানানোর জন্য এ কাজে ইন্ধন দিয়েছে এসেছে’।

তিনি জুলাই বিপ্লব প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের প্রাণশক্তি ছিলো আমাদের যুব ও ছাত্রসমাজ। ছাত্রশিবির এবং জামায়াতে ইসলামী এ আন্দোলনে সার্বিক সহযোগিতা করেছে। আমি নিজেও একজন জুলাই যোদ্ধা’।

মহানগরী আমির সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সৎ ও ভালো কাজে প্রতিযোগিতা করুন। আমরা আমাদের সফল করতে এবং মেয়াদপূর্তিতে সার্বিক সহযোগিতা করবো’।

তিনি অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে নতুন সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় জনগণ কাউকে ক্ষমা করবে না।

তিনি বলেন, ‘আত্মসচেতনতার অভাবেই পলাশী প্রান্তরে শহীদ নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ঘটেছিলো। এ পরাজয় নিছক সামরিক পরাজয় ছিলো না। সে সময় কৃষিক্ষেত্রে কর্মরত কৃষকরা যদি ইংরেজ বাহিনীর দিকে একটি করে পাথরও নিক্ষেপ করতো তাহলে নবাবকে পরাজয় ও গ্রেফতারী বরণ করতে হতো না’।

তিনি জুলাই সনদ সম্পর্কে সরকারের নেতিবাচক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘তারা অন্য কোথাও মস্তক বন্ধক রেখে ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন দেখছে। সরকার গণরায় অস্বীকার করে নতুন করে স্বৈরাচারি হয়ে উঠতে চায়। কারণ, সুখে থাকতে ভুতে কিলায়’।

তিনি সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘হাসিনা তো প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় পেয়েছেন। কিন্তু আপনারা তো তাও পাবেন না’। মহানগরী আমীর সরকারকে অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ নিতে সরকারি দলের সদ্যদের প্রতি আহবান জানান। অন্যথায় তাদেরকে গণরোষের মুখোমুখি হতে হবে।