বর্তমান সংসদের প্রত্যেকেই জুলাই অভ্যুত্থানের ফসল : জামায়াত আমির

সোমবার ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত ​‘ভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার : সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এক জাতীয় সেমিনারে একথা বলেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক
সেমিনারে জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমানসহ অন্যরা
সেমিনারে জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমানসহ অন্যরা |সংগৃহীত

বর্তমান সংসদের প্রত্যেকেই জুলাই অভ্যুত্থানের ফসল বলে মন্তব্য করে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন যে, সংসদে ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া দেখা গেলে তা মেনে নেয়া হবে না।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত ​‘ভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার : সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এক জাতীয় সেমিনারে একথা বলেন তিনি।

রাজধানীর কাকরাইলস্থ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এ সেমিনারে দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও আইনজ্ঞরা বর্তমান রাজনৈতিক সংকট ও গণভোটের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আলোচনা করেন।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান সংসদের প্রত্যেকেই জুলাই অভ্যুত্থানের ফসল। যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের ৬২ শতাংশই ছিল শ্রমিক। তারা ক্ষমতার জন্য নয়, পরিবর্তনের জন্য প্রাণ দিয়েছে। সংসদে ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া দেখা গেলে জনগণ তা মেনে নেবে না।’

তিনি ইসলামী ব্যাংক দখল ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার কঠোর সমালোচনা করেন।

সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, ‘গণভোট জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ীই গঠিত হয়েছে।’ তিনি অভ্যুত্থান-পরবর্তী আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক ও সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হলো জনগণ। সংসদ, বিচার বিভাগ ও সরকার—সবই সংবিধানের অংশ। কেউ এককভাবে সার্বভৌম নয়। জনগণের ইচ্ছার সরাসরি বহিঃপ্রকাশ হলো গণভোট। ২০২৬ সালের গণভোট অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু সরকার একে অস্বীকার করার চেষ্টা করছে।’

তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সংবিধানে প্রথম গণভোটের বিধান অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।

বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘যারা গণভোট নিয়ে আইনি বিতর্ক তুলছেন, তারা আসলে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করেন না। শহীদদের দাবি ছিল রাষ্ট্র মেরামত করা, আর তা করতে হলে সাংবিধানিক সংস্কার অনিবার্য। জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ গণপ্রজাতন্ত্রের পক্ষে যে রায় দিয়েছে, তা অবিলম্বে কার্যকর করা জরুরি।’

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার অভিযোগ করেন, বর্তমান সংকটের মূলে রয়েছে সরকারের একগুঁয়েমি।

তিনি বলেন, ‘৪২ হাজার কোটি টাকা লোন করা হয়েছে, দেশে খাদ্য ও জ্বালানি সংকট প্রকট। আপনারা বলছেন গণভোট বৈধ, তাহলে অধিবেশন ডেকে দ্রুত এর সুরাহা করুন। অন্যথায় ৭০ শতাংশ ভোটারের দাবি আদায়ে রাজপথ ছাড়া বিকল্প থাকবে না।’

এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বলেন, ‘সংবিধান মানুষের উপকারের জন্য, কষ্ট দেয়ার জন্য নয়। ১৯৭১ সালের যুদ্ধ কি সংবিধান মেনে হয়েছিল? প্রধানমন্ত্রীকে মনে রাখতে হবে, যেকোনো পরিস্থিতির দায়ভার শেষ পর্যন্ত তার ওপরই আসবে। রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়েছে, কোনো বিশেষ দলের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য নয়।’

সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “বর্তমান সরকারকে যেন শেখ হাসিনার ‘ভূত’ ধরেছে। সেই ভূত হলো জনগণকে অপমান করার ভূত। ছাত্র-জনতাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে এবং তাদের রায়কে সম্মান না দিয়ে কোনো সরকার টিকতে পারে না। মনে রাখবেন, দম্ভের কারণে ৭০ বছরের পুরনো দল আওয়ামী লীগ ধ্বংস হয়ে গেছে। জনগণের ভোটকে সম্মান দিয়ে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করুন।’

সেমিনারে বক্তারা একমত পোষণ করেন যে, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট এবং গণভোটের রায়কে পাশ কাটিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করলে দেশ আরো গভীর সংকটে নিমজ্জিত হবে।