বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ‘ফ্যাসিবাদী হাসিনা’ কখনো দায়মুক্ত হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার আগে তার জীবন ও কর্ম সবার উদ্দেশে তুলে ধরার সময় এমন মন্তব্য করেন তিনি।
নজরুল ইসলাম খান, দল-মত নির্বিশেষে সমগ্র দেশবাসীর ভালোবাসা নিয়ে বিদায় নিচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। পেছনে রেখে গেলেন এক মহীয়সী নারী, এক সংগ্রামী রাজনীতিবিদ, এক দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়কের অনন্য উদাহরণ।
তিনি আরো বলেন, দু’বছরেরও বেশি সময় অন্ধকার কারাগারে আবদ্ধ থাকায় উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে তিনি দারুণ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সমগ্র দেশবাসী এর সাক্ষী। পায়ে হেঁটে তিনি কারাগারে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু নির্জন কারাগার থেকে তিনি বের হলেন চরম অসুস্থতা নিয়ে। দেশ-বিদেশের চিকিৎসকদের মতে, পরবর্তীতে গৃহবন্দী থাকাকালে বিদেশে চিকিৎসা নিতে না দেয়ার কারণে অসুস্থতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে অবশেষে তাকে মৃত্যুর কাছে হার মানতে হলো। তাই এই মৃত্যুর দায় থেকে ফ্যাসিবাদী হাসিনা কখনো মুক্তি পেতে পারে না।
উল্লেখ্য, লাখো মানুষের অংশগ্রহণে সম্পন্ন হয়েছে বেগম জিয়ার জানাজা। জানাজা পড়ান জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতীব মুফতি আবদুল মালেক।
জাতীয় সংসদ ভবনের মাঠ ও সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে তার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম এই জানাজায় অংশ নিতে আসা মানুষের ভিড় সংসদ ভবন এলাকা ছাড়িয়ে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে এক মহাসমুদ্রে রূপ নেয়। সেখানে ও আশপাশের সব রাস্তাজুড়ে সমবেত হয়েছেন দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিএনপি নেতা, কর্মী, সমর্থকসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ।
এছাড়া বিভিন্ন দূতাবাসের কূটনীতিক ও বিদেশী অতিথিরাও অংশ নিয়েছেন। দেশের নেতাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ জানাজায় শরিক হন। জানাজায় নারীদের অংশগ্রহণের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।



