বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সেনা হত্যাযজ্ঞের পর পতিত, পরাজিত ও বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট অপশক্তি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বিডিআরের নাম পরিবর্তন করে দেয়। এমনকি তাদের ইউনিফর্মও পরিবর্তন করা হয়।
অনুভূতি শেয়ার করে তিনি বলেন, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বিডিআরের নাম পুনর্বহাল করতে চাই। ভবিষ্যতে যাতে কখনোই এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর সাথে আলোচনা করে পিলখানা সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবসকে ‘শহীদ সেনা দিবস’ অথবা ‘সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবস’ অথবা ‘জাতীয় শোক দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করার অনুরোধ জানান তিনি।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক সদস্য ও পরিবারের সাথে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের সশস্ত্র জনগণ সেনাবাহিনীকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের নির্ভরযোগ্য শক্তি হিসেবে মনে করে। সেনাবাহিনীকে ভিন্ন কাজে সংযুক্ত করা হলে সেনাবাহিনীর মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়—আমি তা বিশ্বাস করি।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞের পর সেই নির্মম দিনটি সেনাবাহিনী যথাযথভাবে পালনও করতে পারেনি। আমি এখানে সেনাবাহিনীর হারানো গৌরব ফিরিয়ে দেয়ার কথা বলতে চাই না; বরং গৌরব অর্জন ও ধারণ করার বিষয়ে কথা বলতে চাই। সেনাবাহিনীকে রক্ষা করতে হবে, সেনাবাহিনীর নিজেদের সম্মান ও মর্যাদা সম্পর্কে নিজেদেরই সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আমার কথা হয়তো ছন্দপতন হতে পারে। আমি বিষয়টি যেভাবে বিশ্বাস করি, যেভাবে দেখি, আপনাদের সামনে সেভাবেই উপস্থাপনের চেষ্টা করছি। তবে একটি রাজনৈতিক দল ও দলের একজন সদস্য হিসেবে আমি এতটুকু বলতে পারি—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জনগণের রায়ে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে কোনোভাবেই সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করবে না।
‘সেনাবাহিনীর গৌরব ভূলুণ্ঠিত হয়—এমন কিছু বিএনপি অতীতেও করেনি, বর্তমানেও না, এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও করবে না। কারণ বিএনপি সবসময় বাংলাদেশের পক্ষের দল, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষের শক্তি। রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি রাজনীতির মাঠে শক্তিশালী থাকলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী থাকে, একইসাথে সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদাও অক্ষুণ্ণ থাকে—ইনশাআল্লাহ।’
তিনি বলেন, সেনাবাহিনী অবশ্যই রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন থাকবে, তবে রাজনীতিতে বিলীন হয়ে যাওয়া উচিত হবে না। রাজনীতির চাদরে পেশাকে আচ্ছাদিত করা যাবে না। এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর প্রতিটি কর্মকর্তা ও সদস্যকে অত্যন্ত সচেতন থাকতে হবে।



