দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশনের আহ্বান বিরোধী নেতার

তিনি বলেন, পরিষদের প্রথম বৈঠক আহ্বানের সাংবিধানিক সময়সীমা প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
জাতীয় সংসদে বিরোধী নেতা ডা: শফিকুর রহমান
জাতীয় সংসদে বিরোধী নেতা ডা: শফিকুর রহমান |ফাইল ছবি

জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান সরকারকে দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশনের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, পরিষদের প্রথম বৈঠক আহ্বানের সাংবিধানিক সময়সীমা প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছে।

রোববার (১৫ মার্চ) সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সংসদ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত হয়েছে এবং এটি সাধারণ সাংবিধানিক সংসদীয় রূপান্তরের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

তিনি বলেন, ‘২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর জারি করা একটি প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডারের মাধ্যমে এই সংসদ গঠন করা হয়েছে।’ ওই আদেশে ১৫টি নির্দেশনা রয়েছে, যার অধিকাংশই জুলাই জাতীয় সনদ এবং সংবিধান সংস্কার বিষয়ক গণভোটের সাথে সম্পর্কিত।

আদেশের বিধান উল্লেখ করে তিনি বলেন, তৃতীয় থেকে পঞ্চদশ নির্দেশনা পর্যন্ত জুলাই সনদ, গণভোট প্রক্রিয়া এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়ে নির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির আরো বলেন, নির্দেশনা ১০ অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশনের মতো একই পদ্ধতিতে এবং নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হবে।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘আজ ৩০তম পঞ্জিকা দিবস, কিন্তু এখনো পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি।’

এ সময় তিনি এই বিলম্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭২ উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংসদের অধিবেশন আহ্বান, মুলতবি ও ভেঙে দেন এবং সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী প্রথম বৈঠকের সময় ও স্থান নির্ধারণ করেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা ধরে নিচ্ছি যে প্রধানমন্ত্রী লিখিত পরামর্শ দেয়ার পর রাষ্ট্রপতি সংসদের এই অধিবেশন আহ্বান করেছেন। কিন্তু আদেশে স্পষ্ট বলা আছে যে সংবিধান সংস্কার পরিষদও একই পদ্ধতিতে আহ্বান করতে হবে।

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা আরো বলেন, আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার বিষয়ক গণভোট ইতোমধ্যে সংসদ নির্বাচনের সাথেই অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তার মতে, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার সংস্কার প্রস্তাবগুলোর পক্ষে মত দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আদেশে আরো বলা আছে— যদি সংস্কার প্রস্তাবগুলোর পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পড়ে, তাহলে সাধারণ নির্বাচনের পরপরই সংসদের একই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে।

জামায়াত আমির আরো বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে এখনো তা করা হয়নি, অথচ আজই সময়সীমা শেষ হচ্ছে।’

শফিকুর রহমান বলেন, আদেশের বিধান অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একইসাথে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য— এই দুই ভূমিকায় দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি আরো জানান, পরিষদের প্রথম অধিবেশন থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কারের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রক্রিয়াটি আগে শুরু হতে হবে, তাহলেই তা সম্পন্ন করা সম্ভব।’

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা আরো জানান, বিরোধী দলের ৭৭ জন সদস্য ইতোমধ্যে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট নথিতে স্বাক্ষর করেছেন।

জনগণের গণভোটের মাধ্যমে দেয়া ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন আহ্বানের আহ্বান জানান তিনি।

সূত্র : বাসস