জামায়াত আমির

গণমাধ্যম ঠিক থাকলে রাষ্ট্রের অন্য তিন স্তম্ভ সোজা পথে চলতে বাধ্য

‘বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে সাদাকে সাদা ও কালোকে কালো বলার মাধ্যমে গণমাধ্যম একটি উন্নত রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিল
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিল |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, সাংবিধানিক তিন অঙ্গকে ঠিক রাখতে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ গণমাধ্যমকে ভূমিকা রাখতে হবে। গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। এ চতুর্থ স্তম্ভ ঠিক থাকলে অন্য তিন স্তম্ভ সোজা পথে চলতে বাধ্য। কিন্তু চতুর্থ স্তম্ভ ব্যর্থ হলে বাকি তিন স্তম্ভ ভঙ্গুর হয়ে পড়ে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যর্থ হয়ে যাবে। আমরা সেই ব্যর্থতা আর দেখতে চাই না।

শনিবার (১৪ মার্চ) ঢাকা লেডিস ক্লাবে মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে সাদাকে সাদা ও কালোকে কালো বলার মাধ্যমে গণমাধ্যম একটি উন্নত রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গণমাধ্যমে যারা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ তুলে ধরতে কাজ করেছে তাদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং তারা সফলও হয়েছিল। মাঝে মাঝে মনে হয়, সেই সফলতার রেশ এখনো চলছে। আমরা ফ্যাসিবাদ থেকে আংশিক নয়, পূর্ণ মুক্তি চাই। এটা যার আমলেই হোক, যখনই হোক, ফ্যাসিবাদ কখনো জাতিকে ভালো কিছু দিতে পারেনি, পারবে না।

সাংবাদিকদের অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা জাতির বিবেক। আপনারা বিবেক অনুযায়ী চলবেন। জন্ম যেহেতু হয়েছে, মৃত্যুও একদিন হবে এবং একবারই হবে। তাই চলতে হবে বীরের মতো। মাঝখানে আর কোনো আপস নেই।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী বিরোধীদলে থেকেও সাংবাদিকদের কণ্ঠের পাহারাদারির দায়িত্ব পালন করবে। কিন্তু সাংবাদিকদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে হবে সরকারি দলকে। আমরা এক ঐক্যবদ্ধ জাতি দেখতে চাই। জাতীয় ইস্যুতে, জাতীয় স্বার্থে কারো সাথে আমরা কোনো আপস করব না। সরকারি দল যদি সেই ক্ষেত্রে অনড় থাকে আমরা তাদের পাশে থেকে শক্তি জোগাব, একসাথে লড়াই করব। কিন্তু সরকারি দল যদি এখান থেকে বিচ্যুত হয় তাদেরকে সোজা রাস্তায় আনার চেষ্টা করব, না হলে প্রতিরোধ গড়ে তুলব। এটাই হবে জামায়াতে ইসলামীর নীতি।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার-মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, রমজান মাসে কোরআন নাযিল হয়েছে এবং এ মাসেই কোরআনের বিজয় হয়েছে। আমাদের জীবনের প্রতিটি স্তরে রমজানের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে আলোকিত সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে। কোরআনের আদর্শে বাংলাদেশ পরিচালিত হলে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ হবে এক মানবিক কল্যাণরাষ্ট্র।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ পালিয়ে গেলেও ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর চক্রান্ত আর ষড়যন্ত্র থেমে নেই। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা চিরতরে বন্ধ করতে হবে। এজন্য সাংবাদিক সমাজকে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাই।

সভাপতির বক্তব্যে মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। কিন্তু জামায়াত শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা জুলাই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ও গণভোটে জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছি। আমাদের আশা ছিল সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরাও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন। কিন্তু তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে জনগণের রায় উপেক্ষা করেছেন।

সরকারি দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চলতি অধিবেশনেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করুন।

অনুষ্ঠানে দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো: শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপির পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান ও মুহাম্মদ শামছুর রহমান, দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আজম মীর শাহিদুল আহসান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এম. আব্দুল্লাহ্ ও এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরদার ফরিদ আহমেদ ও বাকের হোসাইন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, দ্য নিউ নেশনের সম্পাদক মোকাররম হোসেন, বাংলা নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু, ঢাকা মেইলের নির্বাহী সম্পাদক হারুন জামিল, ঢাকা সাব-এডিটর কাউন্সিলের সভাপতি মুক্তাদির অনিক ও সেক্রেটারি জাওহার ইকবাল, এটিএন নিউজের সিএনই মাসুদুল হক, দৈনিক নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ, দৈনিক ইনকিলাবের নির্বাহী সম্পাদক ফাহিমা বাহাউদ্দীন, সাপ্তাহিক সোনার বাংলার বার্তা সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, কলামিস্ট ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।