প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলে কারো কারো প্রতি দুর্বলতা দেখা গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস।
তিনি বলেন, কয়েকজন প্রার্থী বলছেন তারা জিতেই গেছেন। আবার সরকারের কেউ কেউ বলছেন তাদের সংসদে যাওয়া উচিত। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হচ্ছে। কিন্তু পক্ষপাতিত্ব হচ্ছে। এটি খারাপ।
আজ শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে হক ক্যাসেল ফ্ল্যাট মালিকদের সাথে নির্বাচনী মতবিনিময় সভা শেষে গণসংযোগকালে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে, সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে ঢাকা-৮ আসনে পোলিং অ্যাজেন্টের সাথে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি। রাতে শান্তিনগর ইষ্টার্ন পয়েন্ট আবাসিক ১৮০টি ফ্ল্যাট মালিকদের সাথে নির্বাচনী মতবিনিময় সভা করবেন মির্জা আব্বাস।
পোলিং অ্যাজেন্টদের সাথে মতবিনিময় সভায় মির্জা আব্বাস বলেন, আমরা বছরের পর বছর জেলে থেকেছি, বছরের পর বছর আন্দোলন করেছি। সেই আন্দোলনের পথকে আমরা সুগম করেছি। সুতরাং এককভাবে ২৪-এর দাবিদার কেউ নয়। কিন্তু এখন অনেকে এমনভাবে ভাবছে, কাজকর্ম ও কথা বলছে- যেন তারা দ্বিতীয়বার দেশ স্বাধীন করেছে।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা যুদ্ধ করেছি, কিন্তু কখনো বলিনি যে আমাদের ক্ষমতা দিতে হবে, আমাদের মন্ত্রী বানাতে হবে। অথচ যারা তখন স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করছিল, আজ তারাই নানা দাবি করছে। প্রমাণস্বরূপ বলা যায়, কয়েক দিন আগেও সরকারের মধ্যেও তাদের প্রতিনিধিরা ছিল, এখনো আছে।
মির্জা আব্বাস বলেন, আমার ধারণা, আমরা যে সময় পার করে এসেছি, তার চেয়েও ভয়াবহ সময় সামনে আসছে। এই সরকার, কিংবা আগামী সরকার, কিংবা অন্তর্বর্তী সরকার- যে কেউই হোক না কেন, বিশ্বের কিছু প্রতিষ্ঠিত শক্তি আমাদের শান্তিতে থাকতে দেবে না।
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, বিএনপি তো ১৭–১৮ বছর ক্ষমতায় নেই। এরপর যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারাই তো নির্বাচনের সূচি ঠিক করেছে, কমিশনে বসেছে, স্কুল-কলেজে প্রভাব বিস্তার করেছে। বিএনপি কোথায়? বিএনপি তো সামনে আসছে, নির্বাচন জয়লাভ করে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে। কিন্তু এখন বিএনপিকেও টার্গেট করা হচ্ছে। ভাবসাপটা এমন- আওয়ামী লীগকে তাড়ানো হয়েছে, এবার বিএনপিকেও তাড়িয়ে দেয়া হবে।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, এই দেশের সচেতন জনগণ ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে ভুল করেনি। তারা সবসময় সঠিক জায়গায় ভোট দিয়েছে। কিন্তু গত ১৮ বছর আমরা ভোট দেয়ার সুযোগ পাইনি। আরেকটি বিষয় হলো- আমার এলাকার মানুষ ১৭–১৮ বছর কোনো এমপির চেহারা পর্যন্ত দেখেনি। শুধু নাম শুনেছে। কোথায় থাকেন, ঠিকানা কী- কেউ জানে না। আমি নিজেও খুঁজে পাইনি।
তিনি আরো বলেন, এই এলাকাতেই জন্মেছি, বড় হয়েছি, স্কুলে পড়েছি। এখানকার মানুষের সাথে আমার সবসময় যোগাযোগ ছিল। আগের প্রার্থী হোক বা এখন যারা আসছে- কেউ বলতে পারবে না তারা কবে এলাকায় এসেছে, কবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। গত ১৭–১৮ বছরে তিন বছরে একবারও কোনো পারিবারিক অনুষ্ঠানে গেছে- এমন কথাও কেউ বলতে পারবে না। এলাকার কারো জন্য এক পয়সা দান করেছে- এমন প্রমাণও নেই। কিন্তু আমি প্রতিটি দুর্যোগে এলাকায় ছিলাম- বন্যা, পানি, বিপর্যয় সবসময়। আমি মন্ত্রী ছিলাম, কিন্তু মন্ত্রিত্বের সুবিধা নিতে যাইনি। মেয়র ছিলাম, কিন্তু গুলশানের মেয়র হাউসে যাইনি। কেন জানেন? কারণ আমার লোকজন কষ্ট করে আমাকে ভোট দিয়েছে। তাদের সমস্যা থাকলে তারা আমাকে কোথায় পাবে? গুলশানে গেলে তারা কিভাবে আসবে? পুলিশি বাধা পেরিয়ে কিভাবে দেখা করবে? এই চিন্তা থেকেই আমি সবসময় এলাকায় থেকেছি। আপনাদের দোয়ায় ও ভোটে আমি তিনবার মন্ত্রী হয়েছি, একবার মেয়র ছিলাম। কিন্তু কখনো মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকিনি।
মির্জা আব্বাস বলেন, সবসময় আপনাদের হাতের কাছে থাকার চেষ্টা করেছি। আগামী দিনেও বলছি- আমাকে খুঁজতে হবে না। একটি ফোন দিলেই হবে। বাসায় না পেলে ফোন দিয়ে জানাবেন- ইনশা আল্লাহ, আমাকে পাবেন।



