জামায়াতের নারীকর্মীকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ, মামলা প্রত্যাহার দাবি

মানববন্ধনে জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের সাধারণ সম্পাদক নুরুননেসা সিদ্দিকী বলেন, দেশে তেল-গ্যাস সঙ্কট দ্রুত সমাধান করতে হবে, চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে সাইবার বুলিং বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ভোলায় নারীকর্মী সাওদা সুমীকে গ্রেফতারের সাথে জড়িতদের বিচার দাবিতে রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের মানববন্ধন
ভোলায় নারীকর্মী সাওদা সুমীকে গ্রেফতারের সাথে জড়িতদের বিচার দাবিতে রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের মানববন্ধন |সংগৃহীত

ভোলা পৌরসভার জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বিবি সাওদা সুমিকে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগ।

বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়।

গত রোববার (৫ এপ্রিল) দিবাগত রাতে ভোলা সদর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শ একাডেমি রোডের নিজ বাড়ি থেকে বিবি সাওদাকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার দুপুরে ভোলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সৌরভ রায় মিঠুর আদালত থেকে তিনি জামিনে মুক্ত হন।

মানববন্ধনে জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের সাধারণ সম্পাদক নুরুননেসা সিদ্দিকী বলেন, দেশে তেল-গ্যাস সঙ্কট দ্রুত সমাধান করতে হবে, চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে সাইবার বুলিং বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আগে শেখ হাসিনার স্বৈরাচারের সমালোচনা করা হলেও এখন একই ধরনের স্বৈরাচারী আচরণের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকসহ বিরোধী মতের লোকজনকে গ্রেপ্তার করা তারই প্রমাণ।

নুরুননেসা সিদ্দিকী বলেন, সরকার একদিকে গণভোটের রায় অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের কথা বললেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণভোট হলে সরকারগুলো সাধারণত গণরায় মেনে চলে, কিন্তু বাংলাদেশে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি।

সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বারবার সংবিধানের আশ্রয় নেয়া হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে সংবিধানের চেতনা প্রতিফলিত হচ্ছে না। তাই মানবাধিকার সুরক্ষা, গণতন্ত্র শক্তিশালী করা এবং দেশের কল্যাণে সংবিধানে মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের আগে থেকেই চাঁদাবাজি, বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং বিশেষ করে নারীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। এসব পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য রাষ্ট্র কাঠামো ও সাংবিধানিক ব্যবস্থায় কার্যকর পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

সংগঠনটির আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাবেকুন্নাহার মুন্নী বলেন, নারীদের ওপর সাইবার বুলিংয়ের ঘটনা ঘটলেও তা নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায় না। অথচ একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের জেরে বিবি সাওদা সুমিকে অন্যায়ভাবে হয়রানি করা হয়েছে। নারীদের ওপর হয়রানি বন্ধ না হলে নারীরা রাজপথে নেমে আসবে এবং সে আন্দোলন থামানো যাবে না।

প্রচার বিভাগীয় সেক্রেটারি নাজমুন নাহার নীলু নাগরিক স্বাধীনতা হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিশেষ করে নারীর অধিকার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকুন। দেশের নাগরিকদের সমস্যা পেট্রোল পাম্পগুলোর দীর্ঘ লাইন দেখলেই বুঝা যায়।

ঢাকা মহানগী দক্ষিণ মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি আয়শা পারভীন অভিযোগ করেন, ফেসবুকে যারা নারী বিদ্বেষমুলক প্রচারণা করছে তাদের অধিকাংশই সরকারী দলের। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরী উত্তর মোহাম্মদপুর পূর্ব থানা মহিলা বিভাগের কর্মপরিষদ সদস্যা ফাতিমা আক্তার হ্যাপী । তিনি বলেন, এখানে আমরা যারা উপস্থিত হয়েছি আমরা দুইটা জেনারেশনকে ধারন করি। আমরা জেনজি’র মা জেন আলফা আমাদের ঘরে লালিত হচ্ছে, আমরা তাদের নিয়ে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছিলাম, রাখছি এবং রাখবো ইনশাআল্লাহ।

ঢাকা মহানগরী উত্তর কর্মপরিষদ সদস্যা নাজমুন নাহারের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে ৮ দফা দাব পেশ করা হয়। দাবিগুলো হলো-

১।বিবি সওদার বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে হবে। এবং তাকে গ্রেফতারের ইন্ধনদাতাকে গ্রেফতার করতে হবে।

২। মধ্যরাতে কোন ওয়ারেন্ট ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে ঘর থেকে তুলে নেয়ার কালচার বন্ধ করতে হবে।

৩। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে নিয়ে অশালীন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যকারীদেরকে সাইবার ক্রাইম মামলার আওতায় শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

৪। সরকারের উদাসীনতায় তেল এবং গ্যাস সঙ্কট বেড়ে চলেছে। বিরোধী দলকে সাথে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে এ সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ নিতে হবে।

৫। বিএনপি সন্ত্রাসী কর্তৃক হামলা এবং উল্টা মামলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে জন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

৬। জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষার আলোকে গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করে মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।

৭। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং গুম সংক্রান্ত অর্ডিন্যান্স পুনর্বহাল করতে হবে।

৮। অটিস্টিক শিশুর মাকে মধ্যরাতে শিশু থেকে বিচ্ছিন্ন করে গ্রেফতারে মা ও শিশুর অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। গ্রেফতারের নির্দেশদাতাকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে হবে।