তথ্য গোপন করে বাংলাদেশ রেলওয়ে ভূ-সম্পত্তি বিভাগের আমিন থেকে কানুনগো পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অনিয়মের বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে তথ্য চাওয়া হলেও প্রকৃত তথ্য গোপন করে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংস্থাপন শাখার একজন উপ-পরিচালক এসব তথ্য গোপন করে প্রতিবেদন দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৬ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত রেলওয়ের চারটি ডিভিশনে ফিল্ড কানুনগো ২১টি পদের বিপরীতে ২০ ভাগ হিসেবে পদোন্নতি পায় চারজন। তবে অনিয়ম করে দুই দফায় মোট ছয়জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভূ-সম্পত্তি বিভাগের আমিন মঞ্জুরুল ইসলাম।
তিনি জানান, রেলওয়ে ২০২০ নিয়োগ বিধি লঙ্ঘন করে ২০২৪ সালে ১ জনের জায়গায় অতিরিক্ত আরো দু’জনকে আমিন থেকে ফিল্ড কানুনগো পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। যাদের পদোন্নতি দেয়া হয়েছে তারা হলেন– হীরেন্দ্রনাথ সরকার, শরিফুল ইসলাম এবং আলিমুর রাজিব। এর আগে, ২০১৬ সালে পূর্ব-পশ্চিম দুই অঞ্চল মিলে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে তিনজনকে আমিন থেকে ফিল্ড কানুনগো পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। পদোন্নতি প্রাপ্তরা হলেন–মোহাম্মদ মহসিন আলী, মোহাম্মদ ফোরকান, মো: শহীদুজ্জামান।
নিয়োগ নিয়ে এ অনিয়মের অভিযোগের ব্যাপারে রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে সংস্থাপনে তথ্য চাওয়া হয়। তবে সংস্থাপনের সেই প্রতিবেদনে তথ্য গোপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান সংস্থাপন থেকে যে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে তাতে অনেক ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
প্রতিবেদনে তথ্য গোপনের বিষয়ে রেলওয়ে মহাপরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, সংস্থাপন থেকে যেভাবে তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে প্রতিবেদন দিয়েছে, আমি তাতে স্বাক্ষর করেছি। তিনি বলেন, তথ্য প্রমাণ ভুল হলে তা সংশোধন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রেলওয়ে ভূমি শাখার পদোন্নতির তথ্য চেয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয় গত ৫ ফেব্রুয়ারি একটি নোটিশ জারি করে। মন্ত্রণালয়ের চাহিদাপত্র অনুযায়ী ১৭ ফেব্রুয়ারি সংস্থাপন শাখার উপ-পরিচালক রাশেদ লতিফ রেলওয়ে মহাপরিচালক আফজাল হোসেন কর্তৃক প্রতিবেদনে স্বাক্ষর নেন।
তথ্য গোপনের বিষয়ে সংস্থাপন শাখার উপ-পরিচালক রাশেদ লতিফ বলেন, মোবাইলে যে তথ্য পেয়েছি সেটাই দিয়েছি। সঠিক তথ্য প্রমাণ পেলে কর্তৃপক্ষের নিকট সম্পূরক প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে।
ভুল তথ্যের বিষয়ে যুগ্ম মহাপরিচালক মো: সেলিম বলেন দাফতরিক কাজের চাপে সবকিছু মনে রাখা যায় না। ভুল হলে তা সংশোধন করা হবে।
২০১০ সালের ১৪ নভেম্বর জনপ্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী ২১টি পদের মধ্যে ১৩টি পদে সরাসরি নিয়োগ করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি পদ সংরক্ষণ রাখার কথা উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ে ক্যাডার বহির্ভূত কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা-২০২০ অনুযায়ী আমিন পদ থেকে ফিল্ড কানুনগো পদে পাঁচজনকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। বর্তমানে আরো তিনটি কানুনগো পদ শূন্য রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
রেলওয়ে ভূ-সম্পত্তি বিভাগ বলছে ফিল্ড-কানুনগো ২১টি পদে ২১ জন কর্মকর্তা রয়েছে। বর্তমানে কোন শূন্য পদ নেই। তারা বলছে সংস্থাপন তথ্য গোপন করে কর্তৃপক্ষকে ভুল তথ্য দিয়েছে।
রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল রাজশাহী পাকশী এবং লালমনিরহাট ডিভিশন ভূ-সম্পত্তি বিভাগে আমিন থেকে কানুনগো পদে জালিয়াতের মাধ্যমে পদোন্নতি দেয়ার অভিযোগ তদন্তে গত ৮ ফেব্রুয়ারি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) সদস্য যুগ্ম মহাপরিচালক অপারেশন এবং যুগ্ম মহাপরিচাল পার্সোনাল সদস্য। তবে কমিটি গঠন হলেও তদন্তের কোনো অগ্রগতি নেই।
এদিকে অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পাওয়া কানুনগো শরিফুলকে ছাড়পত্র দেয়া হলেও তিনি পাকশী ভূমি অফিসে এখনো বহাল রয়েছেন। তার চট্টগ্রাম ভূমি অফিসে যোগদান করার কথা থাকলে তিনি এখনো যোগদান করেননি।



