ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট মানেই গণতন্ত্র ও ইনসাফের পক্ষে অবস্থান।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) মেহেরপুর জেলা প্রশাসন আয়োজনে শহীদ ড. সামসুজ্জোহা পার্কে অনুষ্ঠিত গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ১৯৭১ সালে আমাদের দেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। স্বাধীনতার ৫৪ বছরে আমরা অনেক চ্যালেঞ্জ পেরিয়েছি, কিন্তু দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বায়ত্তশাসন পায়নি এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে পারেনি। এর ফলে জনগণের ইচ্ছার ওপর রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত চাপানো হয়েছে, যা স্বৈরাচার ও দুর্নীতিকে শক্তি দিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পর দেশে রাতের ভোট ও একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। এবারের গণভোট আমাদের এ ত্রুটিগুলো সংশোধনের সুযোগ। আমরা চাই, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসুক, সংবিধান ও প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাক এবং প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থা জনতার কাছে জবাবদিহি করতে সক্ষম হোক। এ গণভোটে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত হবে, ক্ষমতার ভারসাম্য স্থাপন হবে এবং দেশে সুশাসনের ভিত্তি শক্ত হবে। এই ভোটে আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোট দিন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলুন, দেশের জন্য একটি শক্তিশালী, জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করুন।
তিনি আরো বলেন, ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে প্রণীত জুলাই সনদ কোনো দলের নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির সনদ। এ সনদের মাধ্যমেই স্থায়ী ভোটাধিকার ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আরো বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অতিকেন্দ্রীকরণ একটি বড় সমস্যা। বিচার বিভাগ, সংসদ ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সংস্কার অপরিহার্য। এই সংস্কার জনগণের সম্মতির মাধ্যমেই টেকসই হতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে আসন্ন গণভোট ও নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে।
মনির হায়দার বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম। স্বাধীনতার ৫৪ বছরে আমরা রাষ্ট্র হিসেবে কিছু ভুল করেছি। সেই ভুল সংশোধনের জন্যই এবারের গণভোটের উদ্যোগ। এটি কোনো হঠাৎ সিদ্ধান্ত নয়, বরং জাতি হিসেবে নিজেদের ঠিক করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তাই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন।
মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দিন, পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়, মেহেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এ কে এম নজরুল কবীর, জেলা নির্বাচন অফিসার মো: এনামুল হকসহ স্থানীয় বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার শিক্ষক, বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বাসস



