ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনায় করা মামলা প্রমাণের জন্য ৭৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
সাক্ষীর তালিকায় রয়েছেন– মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, নিহত ওসমান হাদির ভাই ওমর বিন হাদি, ডা: মো: মাহফুজুর রহমান, হাদিকে বহনকারী রিকশাচালক কামাল হোসেন, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ, জব্দতালিকা প্রস্তুতকারী পুলিশ, মামলার রেকর্ডকারি পুলিশ অফিসার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।
গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাদি হত্যা মামলায় ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ। চার্জশিটে সাক্ষী করা হয় ৭৭ জনকে। চার্জশিটভুক্ত ১৭ আসামির মধ্যে ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো: হুমায়ুন কবির ও মা মোসা: হাসি বেগমসহ ১১ জন কারাগারে আটক রয়েছেন। শুটার ফয়সালসহ ছয়জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ মামলার চার্জশিটটি দেখলাম বলে স্বাক্ষর করেছেন। ডিবি পুলিশের দেয়া চার্জশিটের ওপর কোনো আপত্তি আছে কিনা এ বিষয় জানানোর জন্য আগামী ১২ জানুয়রি মামলার বাদীকে আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য নোটিশ প্রদান করেছেন আদালত।
গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এ নোটিশ প্রদান করেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম।
পল্টন থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক রুকোনুজ্জামান বলেন, বুধবার হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট দেখলাম বলে স্বাক্ষর করেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম। আগামী ১২ জানুয়ারি মামলার বাদীকে আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার নোটিশ প্রদান করেন আদালত ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম।
এ মামলার পলাতক আসামিরা হলেন– শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ, ফয়সালের সহযোগী আলমগীর হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফিলিপ স্মাল পিলিপস, মুক্তি আক্তার ও ফয়সলের বোন জেসমিন আক্তার।
কারাগারে আটক থাকা আসামিরা হলেন– ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো: হুমায়ুন কবির ও মা মোসা: হাসি বেগম, ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট-এ কার ব্যবসায়ী মুফতি মো: নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের সহযোগী মো: কবির, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম, কাউন্সিল বাপ্পির বোন জামাই আমিনুল ইসলাম রাজু এবং সিপুর ঘনিষ্ঠ ফয়সাল (ফয়সাল করিম মাসুদ নন)।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদির ওপর দুষ্কৃতকারীরা গুলি করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ১২০(বি)/৩২৬/৩০৭/১০৯/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
এরপর গত ২০ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে মতিঝিল মসজিদ থেকে জুমার নামাজের পর প্রচারণা শেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডে শরিফ ওসমান হাদিকে পিছন থেকে অনুসরণ করে আসা মোটরসাইকেলে থাকা আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল দাউদ ও তার সহযোগী অজ্ঞাত পরিচয় আসামি ওসমান হাদিকে চলন্ত অবস্থায় হত্যার উদ্দেশ্য আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করে পালিয়ে যায়।
আহত শরিফ ওসমান হাদিকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং পরবর্তী সময়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স যোগে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়।
পরে গত ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসারত অবস্থায় তিনি মারা যান। বাসস



