পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীতে মোট ১ হাজার ৭৭১টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে ১২১টি ঈদগাহ এবং ১ হাজার ৫৯৯টি মসজিদে জামাতের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো: সরওয়ার। এছাড়া ঈদ জামাতকে ঘিরে কোনো নিরাপত্তার শঙ্কা নেই জানিয়ে তিনি বলেছেন, বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ‘যথেষ্ট প্রস্তুতি’ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা নেই। তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তারপরও আমাদের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা নজরদারি করছে। যদি কিছু হয়, আমাদের জানাবে। সেই অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা অটুট রাখার জন্য আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি আছে।
তিনি বলেন, জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানী ঢাকায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১২১টি ঈদগাহ ও ১৫৯৯টি মসজিদসহ মোট ১৭২০টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, জাতীয় ঈদগাহে ৩৫ হাজারেরও বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করবেন। আর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মোট পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তার মধ্যে প্রথম জামাত শুরু হবে সকাল ৭টায়।
এছাড়া আগারগাঁওয়ে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে আগের দিন ঢাকায় তিনটি ঈদ জামাত এবং শিয়া সম্প্রদায়ের আটটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সব স্থানে অনুষ্ঠিতব্য ঈদ জামাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি সমন্বিত ও সুবিন্যস্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
মো: সরওয়ার বলেন, প্রবেশ গেটে তল্লাশির জন্য আর্চওয়ে এবং মেটাল ডিটেক্টর থাকবে। পুরো জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ আশপাশের এলাকায় সিসি ক্যামেরা দিয়ে মনিটরিং করা হবে। ঈদগাহ ময়দানে আসার প্রধান তিনটি সড়কের প্রবেশ মুখ মৎস্যভবন, প্রেসক্লাব এবং শিক্ষাভবনে ব্যারিকেড থাকবে, যাতে অন্যান্য গাড়ি এই ঈদগাহ ময়দানের আশেপাশের রাস্তায় না আসে।
তিনি আরো বলেন, ঈদ জামাতের চারদিকে পুলিশের পেট্রোলিং ব্যবস্থা থাকবে। মূল গেট হয়ে সব মুসল্লিদের প্রবেশ করতে হবে। নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশ গেট এবং পৃথক নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। ঈদগাহ ময়দান এবং আশপাশের এলাকায় সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড সুইপিং এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের সুইপিং টিম সুইপিং করবে।
এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আমাদের ডিএমপির বোম ডিসপোজাল টিম প্রস্তুত থাকবে। পুরো এলাকা ঘিরে অন্য একটা বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে সোয়াট, সাদা পোশাকে ডিবি এবং সিটিটিসির সদস্যরা ঈদগাহে দায়িত্ব পালন করবেন।
সূত্র : ইউএনবি



