জিয়াউর রহমান শিক্ষাব্যবস্থায় জবাবদিহিতার ভিত্তি তৈরি করেছিলেন : শিক্ষামন্ত্রী

‘শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধে এই অধিদফতরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অন্যতম পবিত্র দায়িত্ব।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা দেন
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা দেন |সংগৃহীত

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার প্রকৃত ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অল্প সময়ের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালেই শিক্ষকদের জন্য ৫০ শতাংশ বেতন চালু করেছিলেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অডিট ব্যবস্থার সূচনাও ছিল তার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তার এ দূরদর্শী উদ্যোগের মাধ্যমেই শিক্ষা প্রশাসনে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতার একটি শক্ত ভিত তৈরি হয়।’

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের (ডিআইএ) কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তারই সুযোগ্য সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের শিক্ষাখাত বাস্তবমুখী পরিকল্পনার মাধ্যমে আরো সামনে এগিয়ে যাবে।

বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও জ্বালানি সঙ্কটের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী সরকারি দফতরগুলোকে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী অফিসিয়াল কাজে গাড়ি শেয়ারিং, বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযম এবং এয়ার কন্ডিশনারের (এসি) তাপমাত্রা নির্ধারিত মাত্রায় রাখার নির্দেশনার কথা উল্লেখ করেন।

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধে এই অধিদফতরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অন্যতম পবিত্র দায়িত্ব।’ এ সময় তিনি কর্মকর্তাদের সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ইতিবাচক প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে স্কুল ও কলেজের জন্য একটি র‌্যাংকিং সিস্টেম চালু করা হবে। গুণগত মান, পরিচালনা ব্যবস্থা, শিক্ষার পরিবেশ এবং ফলাফলের সূচকের ভিত্তিতে এ র‌্যাংকিং নির্ধারণ করা হবে।

সভায় শিক্ষামন্ত্রী কর্মকর্তাদের কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রত্যেকের বর্তমান কর্মকাণ্ড ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে নিজস্ব মতামত লিখিত আকারে মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়ার নির্দেশ দেন। তিনি নিয়মিত অধিদফতর পরিদর্শন এবং কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানেরও আশ্বাস দিয়েছেন।

সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাসস