ইসি সানাউল্লাহ

পোস্টাল ব্যালট নিয়ে ছাড় নয়, ভাববেন না ঘুমাচ্ছি

‘পোস্টাল ব্যালট নিয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না। কেউ যেন না ভাবে নির্বাচন কমিশন ঘুমাচ্ছে। এটা হবে না।’

বিশেষ সংবাদদাতা
ইসি সানাউল্লাহ
ইসি সানাউল্লাহ |ফাইল ছবি

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহ বলেন, পোস্টাল ব্যালট নিয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না। কেউ যেন না ভাবে নির্বাচন কমিশন ঘুমাচ্ছে। এটা হবে না।

তিনি বলেন, পোস্টাল ব্যালট পেপার দেশে বাইরে গেছে সাত লাখ ৬৭ হাজার ৮৪টি। ভুল ঠিকানার কারণে ফেরত এসেছে চার হাজার ৫২১টি। মালয়েশিয়া ও ইতালি থেকে বেশি। প্রতীক বরাদ্দের পর দেশের ভেতর পোস্টাল ভোটিং কার্যক্রম শুরু হবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে আবুল ফজল সানাউল্লাহ এসব কথা জানান। এ সময় ইসি সচিব ছিলেন।

ইসি আবুল ফজল সানাউল্লাহ বলেন, ‘পোস্টাল ব্যালটের বর্তমান স্ট্যাটিস্টিকস যদি বলি, বাংলাদেশ পোস্ট অফিস কর্তৃক প্রবাসী ভোটারদের কাছে মোট সাত লাখ ৬৭ হাজার ৮৪টি ভোট ডিসপ্যাচ করা হয়েছে। একটি ভোটও আমাদের কাছে পড়ে নাই, সবগুলোই ডিসপ্যাচ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে ট্রানজিটে আছে প্রায় সাত লাখ ৫৯ হাজারের মতো ব্যালট। যে দেশগুলোতে পাঠানো হয়েছে, সেখানে পৌঁছেছে প্রায় সাত লাখ সাত হাজার ৫০০টি ব্যালট। এর মধ্যে ভোটারদের হাতে পৌঁছেছে এক লাখ ৪০ হাজার ৮৭৩টি। এই সংখ্যাটা হয়তো এখন আরো একটু বেড়েছে। যারা হাতে পেয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করেছেন—সেই হিসাব অনুযায়ী বলছি।’

তিনি বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে কিছু ব্যালট ঠিকানা ভুল লেখার কারণে ডেলিভারি না হয়ে ফেরত আসছে। ইতোমধ্যে চার হাজার ৫২১টি ব্যালট ফেরত এসেছে। এগুলোর বেশিভাগই এসেছে মালয়েশিয়া থেকে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এসেছে ইতালি থেকে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মিশনগুলোকে বলেছি, যাতে এই সংখ্যাটা কমানো যায় কি না। সে বিষয়ে উদ্যোগ নিতে। বাস্তবতা হচ্ছে, বিশেষ করে মিডল ইস্ট এবং মালয়েশিয়ায় অনেক প্রবাসী খুব স্বল্প পরিসরে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব কোনো অ্যাড্রেস থাকে না। ফলে একাধিক ভোটার একই ঠিকানা ব্যবহার করেছেন।’

মো: সানাউল্লাহ বলেন, ‘দু’জন ভোটার একই ঠিকানা ব্যবহার করেছেন। এই সংখ্যা এক লাখ ৭১ হাজার ৬৮০ জন। পাঁচজন পর্যন্ত ভোটার একই ঠিকানা ব্যবহার করেছেন ৯৫ হাজার ৮১৬ জন। দশজন ভোটার একই ঠিকানা ব্যবহার করেছেন ৫৯ হাজার ২৭৬ জন। বিশজন ভোটার একই ঠিকানা ব্যবহার করেছেন ৩৮ হাজার ১০৯ জন। ২০ থেকে ৫০ জন ভোটার একই ঠিকানা ব্যবহার করেছেন ২১ হাজার ৯১৫ জন। আর ৫০ জনের বেশি, এমনকি ১০০ জনেরও বেশি ভোটার একই ঠিকানা ব্যবহার করেছেন—এমন সংখ্যা ১৪ হাজার ৮৯১ জন।’

তিনি বলেন, ‘এরা মূলত পোস্ট বক্স, নিকটস্থ দোকান বা এমন কোনো ফ্যাসিলিটির ঠিকানা ব্যবহার করেছেন, যেখানে মেইল ডেলিভারি হয়।’