‘কৃষক কার্ডের’ আওতায় সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ

অবৈধ দখল হওয়া সরকারি জমি উদ্ধারে ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় সংসদ অধিবেশন
জাতীয় সংসদ অধিবেশন |ফাইল ছবি

দেশের ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জনপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকার সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে ‘কৃষক কার্ডের’ মাধ্যমে এই প্রণোদনা দেয়া হবে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের টেবিলে উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি প্রণোদনা দেয়া হবে।

তিনি আরো জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা খাতে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দের মধ্যে ইতোমধ্যে ৪০১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ছাড় করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ২৫ লাখ ২২ হাজার কৃষক উপকৃত হয়েছেন।

কৃষকদের ঋণ সহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার কৃষকপ্রতি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে, এতে প্রায় ১২ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন এবং সরকারের ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা।

কৃষি উৎপাদনে সহায়তা দিতে চলতি অর্থবছরে সার, সেচে বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খাতে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত ১৬ হাজার ২৪০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

পাশাপাশি ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের মাঝে ২৬ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৯ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি, ১০ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি এবং ১৬ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার সরবরাহ করা হয়েছে।

ফসল সংরক্ষণ সুবিধা বাড়াতে দেশে ১৮০টি মিনি কোল্ড স্টোরেজ, ৭০৩টি আলু সংরক্ষণ মডেল ঘর এবং ৮০০টি পেঁয়াজ সংরক্ষণ মডেল ঘর নির্মাণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সরকারের এসব পদক্ষেপের ফলে ধান, ভুট্টা, আলু, সবজি ও ফলসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বাড়ছে এবং এ ধারা অব্যাহত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে উল্লেখ করেন কৃষিমন্ত্রী।

অন্যদিকে, অবৈধ দখল হওয়া সরকারি জমি উদ্ধার এবং খাসজমি বন্দোবস্তের লক্ষ্যে ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, অবৈধ দখল হওয়া সরকারি জমি উদ্ধারে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ‘The Government and Local Authority Lands and Buildings (Recovery of Possession) Ordinance, 1970’, ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’ এবং ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিধিমালা, ২০২৪’ প্রয়োগের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার পরিকল্পনা ছাড়াও মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় সরকারি জমি উদ্ধার ও খাসজমি বন্দোবস্ত কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।