অপহরণ ও জালনোট উদ্ধারের নাটক, ব্যবসায়ীর পৌনে ৪ কোটি টাকা লুট

‘বাসা তল্লাশির নামে আলমারিতে রাখা বুধবার, বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার এই চার দিনের মোট তিন কোটি ৭৫ লাখ ২৩ হাজার টাকা সাত থেকে আট ব্যাগ ভরে লুট করে নিয়ে যায়।’

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ফখরুদ্দীন
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ফখরুদ্দীন |সংগৃহীত

অপহরণ ও জালনোট উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে রাজধানীর ওয়ারীতে এক ব্যবসায়ীর বাসা থেকে পৌনে চার কোটি টাকা লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এ ঘটনার সাথে পুলিশ কর্মকর্তা জড়িত বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

সোমবার (২ মার্চ) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ফখরুদ্দীন এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ ফখরুদ্দীন অভিযোগ করে জানান, তিনি চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ও বিভিন্ন বাজার থেকে সরাসরি ইমপোর্টারের কাছে থেকে কসমেটিকস আইটেম, থান কাপড় ক্রয় করে ঢাকার ইসলামপুর এবং চকবাজারে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর নিকট সরবরাহ করেন। গত বছর ৮ নভেম্বর রাত অনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে তার ৩৮ নম্বর ওয়ারীর বাসায় মহানগর ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের এসি তারেক সেকেন্দার (বর্তমানে এডিসি রাঙ্গামাটি) এর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের পুলিশ একটি টিম বাসায় হানা দেয়। প্রথমে তারা জানান, ১৩ বছরের একটি মেয়েকে অপহরণ করে রাখা হয়েছে এই বাসায়। এ কথা বলে জোরপূর্বক বাসায় ঢুকে তল্লাশি করে। বাসা তল্লাশির নামে আলমারিতে রাখা বুধবার, বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার এই চার দিনের মোট তিন কোটি ৭৫ লাখ ২৩ হাজার টাকা সাত থেকে আট ব্যাগ ভরে লুট করে নিয়ে যায়।

এর কিছুক্ষণ পর তারা আবার বাসায় এসে ছয় লাখ টাকা জালনোট ঢুকিয়ে তার নিজস্ব দু’জন কর্মচারীকে ধরে নিয়ে যায় ওয়ারী থানায়। তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়। সেইসাথে তার ব্যবসার সকল কাগজপত্র ও নথিপত্র নিয়ে যায়।

তিনি জানান, ঘটনার সময় ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তিনি মালেয়শিয়ায় অবস্থান করছিলেন। দেশে ফিরে তিনি টাকা উদ্ধারের জন্য ঢাকা মহানগর ডিবি কার্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন। উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকা সিএমএম কোর্টে ডিবির এসি তারেক সেকেন্দার, ১১ পুলিশ সদস্যসহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলা (নম্বর ৪৫/২৬) দায়ের করেন। আদালত মামলার সকল কাগজপত্র, নথিপত্র পর্যালোচনা করে মামলাটি গ্রহণ করে এবং পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য ডিআইজি পিবিআইকে নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী ফখরুদ্দীন জানান, ব্যবসার মূলধন হারিয়ে আজ দিশেহারা। তিনি ন্যায় বিচার ও টাকা উদ্ধারের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।