ডিউটি ফাঁকি দিয়ে চেম্বারে রোগী দেখলে কঠোর ব্যবস্থা : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশ অনুসারে, সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের ডিউটির সময় বেসরকারি চেম্বার বা ক্লিনিকে রোগী দেখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ডিউটি চলাকালীন বেসরকারি চেম্বারে রোগী দেখার ঘটনা রোধে সারাদেশে গোয়েন্দা নজরদারি ও তদারকি জোরদার করা হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন |ইন্টারনেট

সরকারি হাসপাতালে ডিউটি ফাঁকি দিয়ে বেসরকারি চেম্বারে প্র্যাকটিস করলে তার লাইসেন্স স্থগিতসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশ অনুসারে, সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের ডিউটির সময় বেসরকারি চেম্বার বা ক্লিনিকে রোগী দেখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ডিউটি চলাকালীন বেসরকারি চেম্বারে রোগী দেখার ঘটনা রোধে সারাদেশে গোয়েন্দা নজরদারি ও তদারকি জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দায়িত্বে অবহেলা বরদাশত করা হবে না। একই সাথে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করতে মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট, টেকনোলজিস্টসহ বিভিন্ন পদে এক লাখ জনবল নিয়োগ করা হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, অফিস সময়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে বেসরকারি হাসপাতালে রোগী দেখায় সরকারি চিকিৎসক ডা. রাজেশ মজুমদারের লাইসেন্স ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে এবং তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। একই সাথে যে বেসরকারি হাসপাতালে তিনি রোগী দেখছিলেন, সেই প্রতিষ্ঠানকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হয় এবং তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এখন থেকে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক যদি ডিউটির সময়ে বেসরকারিভাবে চিকিৎসা দেন, সেক্ষেত্রে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় কোনো চিকিৎসক যদি ডিউটি ফাঁকি দিয়ে বাইরে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই ধরনের কাজের নজরদারি করার জন্য কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে বিভিন্ন স্থানে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। আমরা উদ্যোগ নিয়েছি, সব জায়গায় কিছু গোপন ব্যাপার আছে, কিভাবে উদ্যোগ নিচ্ছি, এটা ডিসকাস করব না। আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে উদ্যোগ নিয়েছি।

সরকারি হাসপাতালের অবকাঠামো ও জনবল সঙ্কটের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীর তুলনায় চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানের সংখ্যা এখনো কম। এই সঙ্কট কাটাতে সরকার পর্যায়ক্রমে নতুন চিকিৎসক নিয়োগ দিচ্ছে এবং আরো জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।