ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল ও পোশাক সোর্সিং মেলা টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং প্যারিস ২০২৬-এ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন।
ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ এই সোর্সিং মেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের শক্ত অবস্থানকে আরো সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং প্যারিস ইউরোপের সবচেয়ে বড় ফ্যাব্রিক ও গার্মেন্ট সোর্সিং ইভেন্ট, যেখানে প্রায় ৩৫টি দেশের প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন প্রস্তুতকারক অংশগ্রহণ করেন। তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীতে দর্শনার্থীরা রেডি-টু-ওয়্যার থেকে শুরু করে বিলাসবহুল পোশাক পর্যন্ত ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর জন্য বৈশ্বিক সোর্সিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ অফারগুলো আবিষ্কার করার সুযোগ পান।
প্যারিস লো বুর্জের পার্ক দে এক্সপোজিসিওঁসে প্রদর্শনী কেন্দ্রে আয়োজিত এ মেলায় বিশ্বের ৩৫টিরও বেশি দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক প্রদর্শক ও ক্রেতা অংশগ্রহণ করছেন। এবার বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩০টি শীর্ষস্থানীয় পোশাক ও টেক্সটাইল প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে। বোনা ও নিট গার্মেন্টস, ডেনিম, সোয়েটার, ফ্যাশন ফেব্রিকসসহ টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পোশাকপণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে। বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে প্রতিদিনই বিভিন্ন দেশের ক্রেতা ও ফ্যাশন ব্র্যান্ড প্রতিনিধিদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বাংলাদেশের ফ্রান্সে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ও ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি খন্দকার এম. তালহা সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় হল-৩-এ প্রধান অতিথি হিসেবে ‘বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন’র উদ্বোধন করেন। এ সময় প্যারিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) একটি প্রতিনিধিদল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্টরা বলেন, ‘ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। গুণগত মান, সময়মতো সরবরাহ এবং প্রতিযোগিতামূলক মূল্যের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা অর্জনে বাংলাদেশ সক্ষম হয়েছে। এ ধরনের আন্তর্জাতিক মেলা নতুন ক্রেতা সংযোগ, অর্ডার বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক (আরএমজি) রফতানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে এই মর্যাদাপূর্ণ ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশের আরএমজি পণ্যের সর্ববৃহৎ রফতানি গন্তব্য, যেখানে ফ্রান্স বাংলাদেশের পঞ্চম বৃহত্তম রফতানি বাজার। ফলে টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং প্যারিস বাংলাদেশের আরএমজি খাতকে প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।
বাংলাদেশ থেকে ফ্রান্সে বার্ষিক রফতানির পরিমাণ প্রায় ২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার প্রায় ৯২ শতাংশই পোশাক, বস্ত্র ও সংশ্লিষ্ট পণ্য। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ফ্রান্সে বাংলাদেশের আরএমজি, পোশাক ও বস্ত্র রফতানি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা জানান, এ মেলার মাধ্যমে ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতা, টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরো স্পষ্টভাবে তুলে ধরা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে রফতানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা আশাবাদী।



