জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অটোপাসের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

ভিসি’র গাড়িতে ফের হামলা ও ভাংচুর, লাঞ্ছিতের চেষ্টা

মোহাম্মদ আলী ঝিলন, গাজীপুর

Location :

Gazipur
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অটোপাসের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অটোপাসের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন |নয়া দিগন্ত

অটোপাসের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আবারো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর গাড়িতে হামলা ও ভাংচুর করেছে। এসময় আন্দোলকারীরা ভিসিকে লাঞ্ছিতের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে গাজীপুর ক্যাম্পাস থেকে ঢাকায় ফেরার পথে ভিসির বহরে হামলার এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে গত ২১ মে ২০২৫ তারিখে অটোপাসের দাবিতে আন্দোলনরত ২০২২ সালের স্নাতক (পাস) পরীক্ষার্থীদের হামলায় ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ আহত হয়েছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষ ২০২৩ সালের কিছু শিক্ষার্থী অটোপাসের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় তারা ক্যাম্পাস এলাকায় বিক্ষোভ করতে করতে ভিসির গাড়ির সামনে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে বিক্ষোভকারীরা গাড়িতে হামলা চালায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এতে ভিসি বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েন।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, সাম্প্রতি ফলাফল মূল্যায়ন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছিল। এর প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ অটোপাসের দাবিতে আন্দোলনে নামে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই এ দাবিকে অযৌক্তিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও গত ২১ মে ২০২৫ তারিখে অটোপাসের দাবিতে আন্দোলনরত ২০২২ সালের স্নাতক (পাস) পরীক্ষার্থীদের হামলায় ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ আহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ‘শিক্ষার্থীদের অন্যায্য দাবি ও অযৌক্তিক আবদারের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সহানুভূতি দেখাতে পারে না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কোনোভাবেই অটোপাসকে সমর্থন করে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখতে অটোপাস ও অতিরিক্ত গ্রেস প্রদানের প্রবণতা নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরো কঠোর অবস্থান নেয়া হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অটোপাস চালু হলে দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

ঘটনার পর ক্যাম্পাস এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।