ইবিতে কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে শিক্ষিকা খুন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) এক কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ড. আসমা সাদিয়া রুনা খুন হয়েছে।

তাজমুল জায়িম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

Location :

Kushtia
ইবিতে কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে নিহত শিক্ষিকা ড. আসমা সাদিয়া রুনা
ইবিতে কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে নিহত শিক্ষিকা ড. আসমা সাদিয়া রুনা |নয়া দিগন্ত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) এক কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ড. আসমা সাদিয়া রুনা খুন হয়েছে।

বুধবার (৪ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের ২২৬নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমান ওই শিক্ষিকাকে ছুরিকাঘাত করেন এবং একই কক্ষে নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

ক্যাম্পাস সূত্রে, বুধবার সমাজকল্যাণ বিভাগের ইফতার মাহফিল ছিল। এজন্য ৩টার দিকে অফিস শেষ হলেও শিক্ষক শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকাল ৪টা নাগাদ আনসার সদস্যরা বিভাগের চেয়ারম্যানের নিজস্ব কক্ষে চেঁচামেচির আওয়াজ শুনতে পায়। পরে আনসার সদস্যরা বাইরে থেকে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। এমন সময় ইফতারে আয়োজনে দায়িত্বে থাকা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী ধাক্কাধাক্কির কারণ জানতে ওই শিক্ষকের কক্ষের সামনে উপস্থিত হয়। পরে দরজা ভেঙ্গে ওই শিক্ষকের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং ফজলুর রহমানকে নিজের গলায় নিজেই ছুরি চালাতে দেখেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানার কর্তৃপক্ষকে জানান।

খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে ওই শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: হোসাইন ইমাম।

ডা: হোসাইন ইমাম জানান, ‘অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। তার গলা, হাত ও পায়ে ছুরির আঘাতের ক্ষত পাওয়া গেছে।’

বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। পরে বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে তার সাথে ওই শিক্ষকের বাকবিতন্ডা সৃষ্টি হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। অনেকের ধারণা, এ ঘটনার ক্ষোভের জেরে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, চিৎকারের আওয়াজ পেয়ে ২২৬ নম্বর রুমের দিকে গেলে আমরা দেখি বাইরে থেকে আনসার সদস্যরা দরজা ধাক্কা দিচ্ছে। দরজা ভেতর থেকে আটকা পাই। পরে সাতজন মিলে দরজা ধাক্কানো শুরু করলে এক পর্যায়ে দরজাটা খুলে যায়। খুলে দেখি, ম্যাম একদম দরজার পাশেই রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। আর ওই ফজলু (কর্মচারী) লোকটা নিজের গলা নিজেই ছুরি চালাচ্ছেন। সাথে সাথে প্রক্টর স্যারকে ফোন দেই।

প্রক্টর ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠালে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।’

ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, আমরা ঘটনা জানতে পেরে সেখানে উপস্থিত হই। পরে ওই কক্ষ থেকে দুইজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল পাঠাই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত্যু ঘোষণা করেন। আরেকজন ওটিতে চিকিৎসাধীন আছেন।

ভিসি প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ‘আজকের এ ঘটনা অত্যন্ত অকল্পনীয় ও অপ্রত্যাশিত। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সহযোগিতায় অবশ্যই বিচার করা হবে।’