ভারতের একটি ট্রেনের টয়লেট থেকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক তানিউল করিম জীমকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কলকাতার মনিপাল হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার (১ মার্চ) ভারতের ব্যাঙ্গালুরু থেকে কলকাতা ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে।
তানিউল করিম বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সিনিয়র সদস্য। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের স্নাতকোত্তর থিসিসের শিক্ষার্থী।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, গত ২১ ফেব্রুয়ারি মেডিক্যাল ভিসায় চাচার সাথে ভারতে যান জীম। ১ মার্চ সকালে চাচার সাথে ব্যাঙ্গালুরু থেকে ট্রেনে করে কলকাতা আসার পথে ট্রেনের ভেতরেই নিখোঁজ হন জীম। দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর ট্রেনের টয়লেট থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এরপর ট্রেনটি কলকাতায় পৌঁছালে তাকে প্রথমে হাওড়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সিটি স্ক্যান রিপোর্টে তার মাথার পেছনে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ধরা পড়ে। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে কলকাতার মনিপাল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে জীম হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জীমের চাচা জানান, ৪৮ ঘন্টা পার হলেও জীমের এখনো জ্ঞান ফেরেনি। জ্ঞান ফেরার পর শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে অস্ত্রোপচারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এ ঘটনায় গভীর উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন তার পরিবার, সহকর্মী ও বাকৃবিয়ানরা। পরিবারের কারোর ভিসা না থাকায় এ মুহূর্তে পরিবার তার পাশে থাকতে পারছে না। ভারতের অবস্থানরত বাংলাদেশীদের কাছে তার পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
এদিকে, ভাইয়ের চিকিৎসায় পাশে থাকতে দ্রুত ভিসার জন্য ভারতের হাই কমিশন ও বাংলাদেশ সরকারের সহায়তা চেয়েছেন জীমের ছোট ভাই তানিউল করিম মিম।
তিনি বলেন, ‘আমরা ভারতীয় হাই কমিশন ও আমাদের সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি। আমাদের পরিবারের কোনো সদস্য বর্তমানে তার পাশে নেই। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভিসার ব্যবস্থা করে দিলে আমরা ভাইয়ের পাশে থাকতে পারতাম। অনুরোধ করছি, মানবিক দিক বিবেচনা করে আগামী দু’-একদিনের মধ্যে আমাদের ভিসা দেয়ার ব্যবস্থা করা হোক।’



