প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি এলে আমরা একদিনের জন্য ফরমায়েশি বাঙালি সেজে উঠি এবং সংস্কৃতির নামে নানা অপসংস্কৃতির চর্চা করি—এটি মূলত ৯০ শতাংশ মুসলিম দেশে সূক্ষ্ম আধিপত্যবাদী ও ভূরাজনৈতিক অভিসন্ধির বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভিসি ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরিবেশবিজ্ঞানী এবং ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুর রব।
২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আশুলিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শনিবার সকালে এ আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন মো: মাহবুব আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ মো: মনিরুল ইসলাম, প্রকৌশল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: মিজানুর রহমান এবং সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. রমিত আজাদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ. এইচ. এম. আবু সাঈদ।
প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুর রব প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সর্বত্র বাংলা ভাষার প্রচলনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, একুশের মানে হলো বাংলা ভাষার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন। কিন্তু এখনো স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, অফিস-আদালত সর্বত্র ইংরেজিকে প্রাধান্য দেয়া হয়। এসব ক্ষেত্রে সর্বত্র বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলেই মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন সার্থক হবে।
তিনি আরো বলেন, একুশ এলে একদিনের জন্য একুশে ফেব্রুয়ারি পালন করা রাজনৈতিক ভণ্ডামি ছাড়া কিছু নয়। অফিস-আদালতে এখনো যে যত ভালো ইংরেজি বলতে পারে, সমাজের একশ্রেণির তথাকথিত উচ্চবিত্ত তাকে বিশেষ মর্যাদা দেয়। অথচ এদের মধ্যেই অনেকে সারা বছর ঘুষ ও দুর্নীতিতে জড়িত থাকে, সন্তানদের ইংরেজি শিক্ষার জন্য আমেরিকা বা লন্ডনে পাঠায়। অন্যদিকে এ দেশের স্কুল-কলেজে পড়ুয়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে তাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণ করে। অথচ একুশ এলে তারাই আবার একদিনের জন্য বাঙালি সেজে ওঠে—এটি নিছক রাজনৈতিক ভণ্ডামি।
তিনি বাংলা ভাষার প্রতি মেকি ভালোবাসা প্রদর্শন না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের ৩৬৫ দিনই হৃদয়ে দেশপ্রেম ও ভাষার প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা ধারণ করতে হবে। তাহলেই একুশে ফেব্রুয়ারি পালন হবে প্রকৃত অর্থে সার্থক ও তাৎপর্যপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে তিনি বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের শহীদদেরও স্মরণ করেন এবং তাদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন।
পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি রেজিস্ট্রার রফিকুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক কামরুজ্জামান খিজরি। অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করে খুদে অতিথি শিল্পী উমামা, রুহামা ও সাদিয়া।
অনুষ্ঠান শেষে বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলনের শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন ড. আবু আইয়ুব মো: ইব্রাহিম।



