শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (পিএমই) বিভাগে আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগ পাওয়া এক শিক্ষকের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে টানা ১৭ দিন ধরে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করছেন শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রমে না ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থী তাজবিউল ইসলাম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ করেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারির বিজ্ঞপ্তিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ন্যূনতম সিজিপিএ ৩.৫০ নির্ধারণ করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর স্নাতকে সিজিপিএ ছিল ৭.৩৫ (ভারতীয় গ্রেডিং পদ্ধতিতে), যা ৪ স্কেলে রূপান্তর করলে দাঁড়ায় ৩.২১—এমনটাই দাবি শিক্ষার্থীদের।
অভিযোগ রয়েছে, যোগ্যতা পূরণ না করলেও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সুপারিশে তাকে মৌখিক পরীক্ষার কার্ড প্রদান ও পরবর্তীতে নিয়োগ দেয়া হয়।
বিভাগীয় সূত্র জানায়, গত ৮ অক্টোবর তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি অনিয়মের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেয়। কমিটি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকের বেতন-ভাতা স্থগিত ও চাকরিচ্যুতির বিষয়ে কারণ দর্শানোর সুপারিশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে।
পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৫তম সিন্ডিকেট সভায় এ বিষয়ে আইন উপদেষ্টার মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে এখন পর্যন্ত আইন উপদেষ্টার মতামত গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তাজউদ্দিন বলেন, “আমার কাছে মতামত চাওয়া হয়েছে কি না বা আমি মতামত দিয়েছি কি না, ফাইল না দেখে বলতে পারব না।”
এদিকে নিয়োগের প্রায় দেড় বছর পর চাকরিতে যোগদানে বিরত রাখার প্রেক্ষিতে গত ২৫ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট শিক্ষক হাইকোর্টে রিট করেন। ২ ফেব্রুয়ারি রিটের কপি নিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। এর পরদিন ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন।
বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুহয়ী শারদ বলেন, “আবেদনের জন্যই অযোগ্য এমন একজনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিরুদ্ধে আমরা শুরু থেকেই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। দেড় বছরেও কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। তাই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছি। দ্রুত সমাধান না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।”
বিভাগীয় অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি তানজিদ রহমান অপূর্ব বলেন, “দেড় বছর ধরে আমরা আন্দোলন করে যাচ্ছি। প্রশাসন বারবার আশ্বাস দিলেও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেয়নি। অবৈধ নিয়োগ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্লাসে ফিরব না।”
পিএমই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, “নিয়োগটি অনিয়মের মাধ্যমে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়টি প্রশাসন বিবেচনা করছে।” তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক হাইকোর্টে রিট করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রিট খারিজের উদ্যোগ নিয়েছে। বিষয়টি আগামী সপ্তাহে চেম্বার জজ আদালতে উঠতে পারে।
প্রো-ভিসি অধ্যাপক সাজেদুল করিম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে রিট খারিজের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।”
অভিযুক্ত শিক্ষক তাজবিউল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



