দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী নাফিস মোর্শেদের ওপর দুর্বৃত্তদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার শিকার নাফিস মোর্শেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী ।
শনিবার (১১ই এপ্রিল) দিবাগত রাতে বাঁশেরহাট সংলগ্ন বিসিএস গলি এলাকায় এ হামলার শিকার হন তিনি।
হামলার ঘটনার পরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো: নওশের ওয়ান মো: সজিব (২৬) বাবা অজ্ঞাত পরিচয়, জুয়েল ইসলাম (৩৫) বাবা মো: আলাউদ্দীন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী রুপাই হাসদারের ছোট ছেলে ও অজ্ঞাত পরিচয়ের কয়েকজনের নামে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী নাফিস মোর্শেদ চৌধুরী তার দুই নারী সহপাঠীকে নিয়ে বাঁশেরহাট বাজার সংলগ্ন বিসিএস গলিতে হাঁটছিলেন। এ সময় স্থানীয় অভিযুক্ত মো: সজিব ও মো: জুয়েল ইসলামের নেতৃত্বে একদল যুবক তাদের পথরোধ করে এবং অশালীন মন্তব্য শুরু করে। বখাটেদের গালিগালাজ ও অশালীন আচরণের প্রতিবাদ করলে তারা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে জুয়েলের নির্দেশে অভিযুক্ত সজিব ধারালো বাঁশের ফালা দিয়ে হত্যার উদ্দেশে নাফিসের কপালে আঘাত করে। এতে তার কপাল কেটে যায় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।
হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, কপালে আটটি সেলাই দেয়া হয়েছে, মাথার খুলি ফেটে গেছে। রোগী আপাতত কিছুটা আশঙ্কা মুক্ত। তবে আমরা রোগীকে আমাদের পর্যবেক্ষণে রেখেছি।
এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. নওশের ওয়ান বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়েছি। ইতোমধ্যে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর পক্ষে আমি মামলা করেছি। মামলার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ক্যাম্পাসের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করেছি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নূরনবী বলেন, ‘শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা নেয়া হয়েছে। মামলার পরপরই ২ নম্বর আসামি অভিযুক্ত জুয়েল ইসলামকে আটক করা হয়। বাকিদের ধরার জন্য আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।’



