বুটেক্স জুলাই কালচারাল সেন্টারের উদ্যোগে ‘সুফরাতুল ইয়াতামা’

এই আয়োজনে মারাসার ৯০ শিক্ষার্থী, ২০ শিক্ষক ও সহযোগীসহ মোট ১১০ জন অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষার্থীদের সাথে বসে ইফতার করা এবং ঈদ উপলক্ষে উপহার বিতরণের মাধ্যমে দিনটি আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

শেফাক মাহমুদ, বুটেক্স
রাজধানীর নাখালপাড়ায় হাজী আব্দুল মিয়া ইসলামিয়া মাদরাসা ও এতিমখানায় বুটেক্স শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় ‘সুফরাতুল ইয়াতামা’
রাজধানীর নাখালপাড়ায় হাজী আব্দুল মিয়া ইসলামিয়া মাদরাসা ও এতিমখানায় বুটেক্স শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় ‘সুফরাতুল ইয়াতামা’ |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) জুলাই কালচারাল সেন্টারের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে “সুফরাতুল ইয়াতামা”। গত রোববার (১৫ মার্চ ) তেজগাঁও নাখালপাড়ায় অবস্থিত হাজী আব্দুল মিয়া ইসলামিয়া মাদরাসা ও এতিমখানায় অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়। যেখানে এতিম শিশুদের ইফতার ও উপহার বিতরণ করা হয়।

“সুফরাতুল ইয়াতামা” আয়োজনের জন্য প্রথমে সংগঠনটি অনুদান সংগ্রহ করে। অনুষ্ঠানটির জন্য ৫৪ হাজার ৯৫২ টাকা তহবিল সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ৪২ হাজার ৯৫৬ টাকা ব্যয় করে এতিম শিশুদের জন্য ইফতার আয়োজন, ঈদ কার্ড, ঈদ সালামি, আতর, চকলেটসহ বিভিন্ন উপহার এবং মাদরাসার জন্য কুরআন শরিফ, ফ্যানসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রদান করা হয়। বাকি অর্থ ভবিষ্যতে সুবিধাবঞ্চিতদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। বুটেক্সের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাইরেও দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অনেকেই এই সামাজিক কাজে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

এই আয়োজনে মারাসার ৯০ শিক্ষার্থী, ২০ শিক্ষক ও সহযোগীসহ মোট ১১০ জন অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষার্থীদের সাথে বসে ইফতার করা এবং ঈদ উপলক্ষে উপহার বিতরণের মাধ্যমে দিনটি আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠান সম্পর্কে জুলাই কালচারাল সেন্টারের সদস্য ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক (আফিফ) বলেন, “এই আয়োজনের একজন সহযোগী হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম মাত্র ৪০ জন এতিম শিশুকে নিয়ে ছোট পরিসরে ইফতার করব। কিন্তু শিক্ষক, অ্যালামনাই, সিনিয়র, ব্যাচমেট ও জুনিয়রদের সহযোগিতায় প্রায় ৫০ হাজার টাকার অধিক অনুদান সংগ্রহ হয়। পরে আমরা আরো বড় পরিসরে এই কাজ করার উদ্যোগ নেই। বাচ্চাদের ঈদ কার্ড খুলে ঈদের সালামি, চকলেট ও আতর পেয়ে যে আনন্দ দেখেছি—সেটিই ছিল আমাদের সেই দিনের সবচেয়ে আত্মতৃপ্তিকর মুহূর্ত।”

জুলাই কালচারাল সেন্টারের সদস্য ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী গোলাম মোর্শেদ বলেন, “আমরা একটি স্থানীয় এতিমখানায় গিয়ে শিশুদের সাথে ইফতার করেছি এবং বিভিন্ন উপহার সামগ্রী দান করেছি। যারা আমাদের ওপর আস্থা রেখে অনুদান দিয়েছেন তাদের প্রতি আমরা গভীর কৃতজ্ঞ। এতিম শিশুদের সরল হাসি ও ঈদের উপহার পেয়ে তাদের আনন্দ আমাদের গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। এটি সত্যিই একটি অনন্য অভিজ্ঞতা।”

এ সময় সংগঠনের আরেক সদস্য মিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, "খুব অল্প সময়ের নোটিশে, মাত্র ৪–৫ দিনের মধ্যেই আমরা “সুফরাতুল ইয়াতামা” আয়োজনটি সম্পন্ন করেছি। সারাদিন আমরা তাদের সাথে সময় কাটিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে তারা আমাদের থেকে আলাদা নয়, বরং আমাদেরই একটি অংশ। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল তাদের মাঝে ঈদের আমেজ পৌঁছে দেওয়া এবং সবাইকে এতিমদের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করা।"

ওই মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মুফতী মোস্তফা হোসাইন বলেন, “এই ধরনের সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগ সত্যিই অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমাদের দ্বীন ইসলাম সবসময়ই অসহায় ও এতিমদের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয়। আজকের এই আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের এতিম বাচ্চারা অনেক খুশি হয়েছে। বিশেষ করে ছোট ছোট উপহার ও সালামি পেয়ে তাদের আনন্দ আরও বেড়ে গেছে। আমি আয়োজকদের জন্য দোয়া করি—আল্লাহ যেন তাদের এই সুন্দর প্রচেষ্টাকে কবুল করেন এবং ভবিষ্যতেও তারা এ ধরনের ভালো কাজে এগিয়ে আসে।”