ববি ছাত্রলীগের সাথে গোপন বৈঠক, ৪ জনকে থানায় নিলো পুলিশ

কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে গোপনে বৈঠকের অভিযোগে ভাড়া বাসায় তল্লাশি চালিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ছাত্রলীগ নেতা মইদুর রহমান বাকিসহ চারজনকে থানায় নিয়েছে পুলিশ।

মেহরাব হোসেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

Location :

Barishal
ববি শিক্ষার্থীর ভাড়া বাসায় পুলিশের তল্লাশি
ববি শিক্ষার্থীর ভাড়া বাসায় পুলিশের তল্লাশি |নয়া দিগন্ত

কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে গোপনে বৈঠকের অভিযোগে ভাড়া বাসায় তল্লাশি চালিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ছাত্রলীগ নেতা মইদুর রহমান বাকিসহ চারজনকে থানায় নিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে বরিশাল শহরের রূপাতলি হাউজিংয়ের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের ছায়া নিকেতন নামে ববি শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান তমাল ওরফে এম এইচ তমালের ভাড়া মেসে কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এ সময় ছাত্রলীগ নেতা মইদুর রহমান বাকি ও এম এইচ তমালসহ চারজনকে থানা হেফাজতে নেয় পুলিশ।

হেফাজতে নেয়া ওই চারজন হলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান তমাল, মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আকরাম খান ইমন, ছাত্রলীগ নেতা সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী মহিদুর রহমান বাকী এবং রাকিব হাসান রনি।

জানা গেছে, রূপাতলি ২২ নম্বর ওয়ার্ডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ইমন ও তমালের বাসায় মইদুর রহমান বাকিসহ ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মীরা প্রায়ই জড়ো হন গোপনে বৈঠকের জন্য। আজও এমন সংবাদের ভিত্তিতে রাত ৯টার দিকে বাসাটিকে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অবরুদ্ধ করে পুলিশকে খবর দেন। পরবর্তীতে পুলিশ রাত ১০টার দিকে তমালের মেস তল্লাশি করে চারজনকে থানা হেফাজতে নিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী সোহান বলেন, ‘সবার চিল্লাচিল্লিতে বাসার নিচে এসে শুনছি ছাত্রলীগ আটক করেছে। পরে বাসায় তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ কয়েকজনকে থানায় নিয়ে গেছে।’

ছাত্রলীগ নেতা মইদুর রহমান বাকিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিপরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়। এম এইচ তমালের বিরুদ্ধেও একাধিক মাদক ও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। তমালের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে। আটক হওয়া আরেক শিক্ষার্থী ইমনের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। রূপাতলির ভাড়া বাসায় তারা মাদককারবারি করে বলে একাধিক অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, ‘রূপাতলি হাউজিংয়ের ২২ নম্বর রোডে ছায়া নিকেতন বাসভবনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই সময়ে যারা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিতো তারাসহ মহানগর ছাত্রলীগ একত্রিত হয়ে আবার তাদের আধিপত্য বিস্তার করার জন্য গোপন ষড়যন্ত্রের লিপ্ত হন। আমাদের কাছে খবর আছে, এই বাসায় মাদকের কারবার চলে। আমরা খবর পেয়ে তাদের অবরুদ্ধ করে পুলিশকে খবর দেই।’

মাহমুদুল হাসান তমাল অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ‘আমার এই ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী গ্যানজামে চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে আসছে ছাত্রদলের কিছু পোলাপান। আমি তাদের বলছি, আমি তোমাদের ভার্সিটির বড় ভাই আছি। আমি এই বাসায় থাকি, আমি এ বিষয়টি দেখতেছি পুলিশের উপস্থিতিতে। তাদের চাঁদাবাজিতে বাধা দেয়ার কারণে তারা এই মব সৃষ্টি করছে।’

বরিশাল কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত ) বলেন, ‘আমরা বাসায় তল্লাশি চালিয়েছি। এখন ওনাদের রেসকিউ করার জন্য থানায় নিয়ে যাচ্ছি।’