শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় জবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

রোববার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহীদ রফিক ভবনের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

নুর আলম, জবি সংবাদদাতা

Location :

Dhaka
জবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
জবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন |নয়া দিগন্ত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচের পর গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর দ্বারা ইসলামিক স্টাডিজ (আইএস) বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে আইএস বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহীদ রফিক ভবনের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থী আরাফাত বলেন, ‘১৮ হাজার শিক্ষার্থীর এই বিশ্ববিদ্যালয় একটি পরিবার। সম্মানিত শিক্ষকের ওপর হামলা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

একই বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী সাবিত বলেন, ‘খেলা শেষে সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠি ও ইট নিয়ে তাদের বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন, একজন ছাত্রের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন।’

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘দোষীদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে, তা না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব। সুস্থ ক্রীড়া সংস্কৃতির নামে শিক্ষককে লাঞ্ছিত করা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।’

২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী আকরামুল হক উল্লেখ করেন, ‘তাদের দলের বিরুদ্ধে আনা অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই খেলোয়াড়ের লাল কার্ড বাতিল করা হয়েছে এবং গোলকিপারের বয়স নির্ধারিত সীমার মধ্যে ছিল।’

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে পাঁচটি দাবি তুলে স্মারকলিপি দিয়েছেন—

হামলায় জড়িত নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীসহ ভিডিওতে শনাক্ত সকল দোষীকে তদন্ত সাপেক্ষে স্থায়ী বহিষ্কার করতে হবে।

রিফাতুল ইসলামের ওপর হত্যাচেষ্টা ও শিক্ষক ড. ছালেহ উদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনায় ফৌজদারি মামলা করতে হবে।

অনলাইনে উসকানি ও বানোয়াট সংবাদ প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

শ্লীলতাহানির অভিযোগ প্রমাণিত করতে হবে। অভিযোগ মিথ্যা হলে চরিত্রহননের সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় বহন করবে।

দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আইএস বিভাগের সকল শিক্ষার্থী ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করছে। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন, ‘শিক্ষকের ওপর হামলা কেন? জবাব চাই’, ‘হামলাকারীদের বিচার চাই, নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই’, ‘শিক্ষকের সম্মান রক্ষা করো, ক্যাম্পাস সন্ত্রাস মুক্ত করো’।

উল্লেখ্য, ফাইনাল ম্যাচে টাইব্রেকারে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ৩–২ গোলে জয় লাভ করে। খেলা শেষে উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হাতাহাতি ও সংঘর্ষে পরিণত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে মাঠে দায়িত্ব পালনরত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কয়েকজন সাংবাদিকও আহত হন।