খামেনির মৃত্যুতে ঢাকার শোক প্রকাশ

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আজ সোমবার দুপুরে বৈঠকে বসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি |ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত ৬০ লাখের বেশি বাংলাদেশীর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছে সরকার।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে আমাদের দূতাবাসগুলোকে প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে এবং স্থানীয় সরকারের জারি করা নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ জারি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইউএনবিকে জানান, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আজ সোমবার দুপুরে বৈঠকে বসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বাংলাদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে সরকার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আজ বিকেল সাড়ে ৪টায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে ব্রিফ করার কথা রয়েছে।

এদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় তার নিহতের ঘটনায় সরকার গভীরভাবে শোকাহত। বাংলাদেশ ইরানের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে। এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও বিধিবিধানের লঙ্ঘন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘বাংলাদেশ বিশ্বাস করে সংঘাত কোনো সমাধান বয়ে আনে না; কেবল সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার মাধ্যমেই বিরোধের সমাধান সম্ভব।’

পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশী নিহত এবং আরো সাতজন আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে সরকার।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমানে একটি বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলার ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে নিহত হন মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার বাসিন্দা সালেহ আহমেদ।

আরব আমিরাতে বাংলাদেশ দূতাবাস বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে এবং বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু হলে লাশ দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হবে বলেও জানিয়েছে সরকার।

এছাড়া বাহরাইনে একজন বাংলাদেশী নিহত এবং আরো তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। মানামায় বাংলাদেশ মিশন ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রাখছে।

অন্যদিকে, কুয়েতে বেসামরিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় ড্রোন হামলায় চার বাংলাদেশী আহত হন। তারা হলেন— ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আমিনুল ইসলাম, পাবনার সাঁথিয়ার রবিুল ইসলাম, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের মাসুদুর রহমান ও কুমিল্লার চান্দিনার দুলাল মিয়া।

তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেয়েছেন এবং বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছেন বলে জানা গেছে। কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং রাষ্ট্রদূত ব্যক্তিগতভাবে হাসপাতালে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নিয়েছেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরে আটকা পড়েছে।

দূতাবাস জাহাজের নাবিকের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে। জাহাজের সব নাবিক নিরাপদ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির অবনতিতে গভীর উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

সূত্র : ইউএনবি