আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের মালিকানাধীন মদিনা হিমাগার থেকে ১৯ হাজার কেজি মাল্টা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় প্রাথমিকভাবে পুলিশি সালিস বৈঠকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা থাকলেও উল্টো প্রভাব খাটাচ্ছে মদিনা হিমাগার কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ বলছে, সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করতে চাইলেও হিমাগার কর্তৃপক্ষ তা শুনছে না। যার কারণে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
অভিযোগে বলা হয়, ব্রাদার্স ভিশন নামক একটি প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ১১৪ কার্টন মাল্টা (প্রায় ১৯ হাজার কেজি) সংরক্ষণের জন্য গত ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার বাদামতলী এলাকার মদিনা হিমাগার লিমিটেডে রাখা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার শারাফাত বিশ্বাস সুমন জানান, ‘মাল্টা সংরক্ষণের প্রায় এক মাস পর তিনি হিমাগারে গিয়ে পণ্যগুলো পরিদর্শন করেন। তখন হিমাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র স্টোরকিপার ফিরোজ মিয়ার উপস্থিতিতে মাল্টাগুলো ভালো অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে আরো একবার তিনি পরিদর্শন করেও একই অবস্থা দেখেন।’
কিন্তু গত ১৪ ফেব্রুয়ারি হিমাগার কর্তৃপক্ষ ফোন করে জানায়- মাল্টাগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এরপর পরদিন সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ভালো মাল্টার পরিবর্তে সেখানে পচা মাল্টা রাখা হয়েছে।
ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠান ব্রাদার্স ভিশনের দাবি, তাদের ভালো মাল্টা আত্মসাৎ করে সেখানে নষ্ট মাল্টা রেখে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানাকে জানানো হলে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে থানায় একটি বৈঠক হয়। সেখানে হিমাগার কর্তৃপক্ষ মালিকপক্ষের সাথে আলোচনা করে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু ক্ষতিপূরণের ৫০ লাখ টাকা না দিয়েই গত ১ মার্চ হিমাগার কর্তৃপক্ষ একটি চিঠি পাঠিয়ে দুই দিনের মধ্যে মাল্টা নিয়ে না গেলে তা সিটি করপোরেশনের ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দেয়ার কথা উল্লেখ করে।
মদিনা হিমাগার লিমিটেডের কর্মকর্তারা বলছেন, তারা নিয়ম মেনেই ফল সংরক্ষণ করেছে। এর বেশি কিছু বলতে চাননি।
কোতয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মশিউর আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে বিষয়টি সমাধানে আমরা উভয়পক্ষকে নিয়ে বসেছিলাম। কিন্তু সমাধান না হলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।



