ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড প্রতারণা চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) ইউনিট।
ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড সংক্রান্ত প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আত্মসাতের ঘটনায় অভিযুক্ত মো: রাকিবুল ইসলামকে (২৩) রোববার (১২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৭টায় দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
মো: রাকিবুল ইসলাম দিনাজপুরের পার্বতীপুর থানার তাজনগর বাইসাপাড়ার আনসার আলীর ছেলে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, খুলনা বিদ্যুৎ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গত ০৬/০১/২০২৬ তারিখে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির কল পান। কলকারী নিজেকে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ‘নেক্সাস পে’ ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড আপগ্রেডেশন সংক্রান্ত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে কার্ডের তথ্য হালনাগাদের কথা বলেন। সরল বিশ্বাসে ভুক্তভোগী তার ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের ব্যাক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য প্রদান করেন। এর সুযোগ নিয়ে প্রতারক চক্র ০৭/০১/২০২৬ হতে ০৯/০১/২০২৬ তারিখের মধ্যে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে মোট ১২টি অবৈধ লেনদেন সম্পন্ন করে এবং সর্বমোট ১৩,৭৫,৫১৫/- (তের লাখ পঁচাত্তর হাজার পাঁচশত পনের) টাকা আত্মসাৎ করেন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী বিষয়টি বুঝতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করেন এবং পরে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি সিআইডি অধিগ্রহণ করার পর সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) ইউনিটের একটি চৌকস দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে এবং অভিযানের মাধ্যমে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত স্বীকার করেন যে, তিনি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।
তার ভাষ্যমতে, ২০২৩ সাল থেকে টেলিগ্রামে বিভিন্ন অনলাইন কাজের প্রলোভনে পড়ে তিনি প্রতারক চক্রটির সাথে যুক্ত হন। পরবর্তীকালে চক্রটির নির্দেশনায় তিনি ‘Line Bet’ ও ‘Raddy’ নামীয় অ্যাপ ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রতারক চক্রকে সহায়তা করতেন। একইসাথে আত্মীয়-স্বজনের একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্যাদি সংগ্রহ করে সেগুলো অবৈধ অর্থ লেনদেনের কাজে ব্যবহার করতেন।
গ্রেফতার অভিযুক্তকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আসামির কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতারক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সিআইডি সকলকে এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে, অচেনা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে কোনোভাবেই ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের তথ্য, ওটিপি (ওটিপি) বা ব্যাংক সংক্রান্ত গোপন তথ্য প্রদান না করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।



