স্বামীর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ স্ত্রীর

ওই স্ত্রীর দাবি, স্বামী কখনো তাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকার করেন, আবার কখনো অস্বীকার করেন। কাবিননামার কপি চাইলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরই মধ্যে রকির মায়ের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে মোট তিন লাখ টাকা নেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী ওই স্ত্রী
বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী ওই স্ত্রী |নয়া দিগন্ত

রাজধানীর আজিমপুরের এক যুবতী স্ত্রী স্বামীর বিরুদ্ধে প্রতারণা, ভরণপোষণ না দেয়া, গোপনে তোলা ব্যক্তিগত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি এবং ইতোমধ্যে কিছু ছবি প্রকাশের অভিযোগ এনে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

ভুক্তভোগী জানান, ২০২২ সালে তিনি কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা মোহাম্মদ রকি হোসেনের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিবাহের পর তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সংসার শুরু করলেও কিছু দিন পর থেকেই স্বামীর আচরণে অস্থিরতা দেখা দেয়। তার অভিযোগ, রকি দীর্ঘ সময় ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন, নিয়মিত ভরণপোষণ দেন না এবং নিজের ইচ্ছামতো যোগাযোগ করেন।

ওই স্ত্রীর দাবি, স্বামী কখনো তাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকার করেন, আবার কখনো অস্বীকার করেন। কাবিননামার কপি চাইলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরই মধ্যে রকির মায়ের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে মোট তিন লাখ টাকা নেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগটি হলো—দাম্পত্য জীবনের একান্ত মুহূর্তের কিছু ছবি গোপনে ধারণ করে তা প্রকাশের হুমকি দেয়া। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, তার অজ্ঞাতে ধারণ করা কিছু ব্যক্তিগত ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে এবং আরো ছবি ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে। টাকা না দিলে এসব ছবি ছড়িয়ে দেয়া হবে বলে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরো বলেন, ‘বিবাহিত স্ত্রী হিসেবে বিশ্বাস করে সংসার করেছি। এখন আমাকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করা হচ্ছে। আমি এ প্রতারণার প্রতিবাদ জানাই এবং ন্যায়বিচার চাই।’

আইনজীবীদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। বিশেষ করে গোপনে ব্যক্তিগত ছবি ধারণ ও প্রচার, ব্ল্যাকমেইল এবং আর্থিক প্রতারণা—এসবের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।