ঈদুল ফিতরের ছুটি ঘিরে দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে পর্যটকের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। ঈদের তৃতীয় দিন সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল থেকেই বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে পর্যটকদের উপস্থিতিতে সরগরম হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টজুড়ে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়।
সৈকতের বালুচরে সকাল থেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে আনন্দ উৎসব করছে পর্যটকরা। কেউ সমুদ্রের পানিতে নেমে গোসল করছেন, কেউ জেটস্কি বা স্পিডবোটে চড়ছেন। আবার কেউ বিচ বাইক কিংবা ঘোড়ার পিঠে চড়ে উপভোগ করছেন সৈকতের সৌন্দর্য। সাগরের নীল জলরাশি, নরম বালুচর আর হালকা বাতাস মিলিয়ে এক ভিন্ন আবহ তৈরি হয়েছে পুরো এলাকায়।
সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে পর্যটকদের ছবি তোলা, আড্ডা দেয়া আর আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠার দৃশ্য ছিল চোখে পড়ার মতো। শিশুদের কোলাহল আর বড়দের উচ্ছ্বাস মিলিয়ে ঈদের আনন্দ যেন ছড়িয়ে পড়েছে পুরো সৈকতজুড়ে।
ঈদের এ ছুটি উপভোগ করতে পেরে পর্যটকরা উচ্ছ্বসিত। এখানে এসে সমুদ্র, পাহাড় আর সবুজ প্রকৃতির মিলন দেখে তারা মুগ্ধ।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। সৈকত এলাকায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশি টহল। ইউনিফর্মধারী সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকে নজরদারি দল ও গোয়েন্দা টিমও কাজ করছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পরিদর্শক পারভেজ আহমেদ বলেন, ‘তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করছে বিভিন্ন টিম।’
সৈকতে দায়িত্ব পালনকারী লাইফগার্ড সদস্যরা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে লাল পতাকা টাঙানো হয়েছে। পর্যটকদের সতর্ক করে নিরাপদে সমুদ্রের পানিতে নামার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
কক্সবাজার সি সেফ লাইফ গার্ডের সুপারভাইজার সাইফুল্লাহ সিফাত জানান, সাগরে দুর্ঘটনা এড়াতে নিয়মিত মাইকিং ও নজরদারি চালানো হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে জমে উঠেছে পর্যটনের মৌসুম। সৈকতের ঢেউ, বালুচর আর মানুষের উচ্ছ্বাস সবকিছু মিলিয়ে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে পুরো সমুদ্রনগরী।



