সেতু না থাকায় সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে চার গ্রামের পাঁচ হাজার মানুষের দুর্ভোগ চরমে। শুকনো মৌসুমে বৌলাই নদীতে বাঁশের চাটাই দিয়ে কোনো রকমে পায়ে হেঁটে চলাচল করতে পারলেও বর্ষায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীরা।
অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে আর এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের রসুলপুর, টুকেরগাঁও, গোবিন্দপুর ও সংরামপুর গ্রামের বাসিন্দারা দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের টুকেরগাঁও (শ্রী শ্রী কালী মন্দির সংলগ্ন এলাকা) ও টাকাটুকিয়ার মধ্যবর্তী স্থানে বৌলাই নদীর শাখা নদীতে একটি সেতু নির্মাণ করা হলে দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন ওইসব গ্রামের বাসিন্দারা।
জানা গেছে, উপজেলার বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর, টুকেরগাঁও, গোবিন্দপুর, সংরামপুর গ্রামে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের বসবাস। কিন্তু গ্রামগুলোতে সড়কপথে ভালো কোনো ব্যবস্থা নেই। আর উপজেলা সদর, হাসপাতাল, জেলা শহরসহ অন্যান্য স্থানে যেতে হলে বৌলাই নদী পাড়ি দিতে হয়। নদীটি খুব বেশি বড় না হলেও শুকনো মৌসুমে নদীতে ছোট বাঁশের চাটাই দিয়ে না হলে পানি দিয়ে পায়ে হেঁটে যেতে হয়। আর বর্ষায় নৌকা দিয়ে পারাপার হলেও গত কয়েক বছর ধরে নিজেদের স্বার্থে বাঁশের চাটাই দিয়ে সেতু নির্মাণ করা হয়। সেই সেতু দিয়ে পারাপার হতে জীবনের ঝুঁকির মুখে পড়েছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীরা।
রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা রুবেল মিয়া ও সাইফুল ইসলাম রোকন জানান, চারটি গ্রামে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় অনেক শিক্ষার্থী লেখা পড়া করে। আর তাদের প্রতিদিন এই নদী পার হতে হয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। আর মা-বাবারা ভয়ে থাকেন দুর্ঘটনা ঘটে কি-না, তাই এখানে একটি সেতু হলে আর কোনো সমস্যা থাকবে না। এছাড়াও এখানে উৎপাদিত ধান, সবজিসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহন সহজ হতো আর লাভবান হতেন কৃষকরা।
দলিল লেখক আলা উদ্দিন, চাকরিজীবী জয়নাল ও কালাম মিয়া জানান, টুকেরগাঁও (শ্রী শ্রী কালী মন্দির সংলগ্ন এলাকা) ও টাকাটুকিয়া গ্রামের মধ্যে নদীর ওপর সেতু না থাকায় এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই শিক্ষার্থী ও বয়স্ক মানুষজন পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। এলাকাবাসী সেতু নির্মাণের দাবি জানালেও দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।
বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাজ্বী ইউনুস আলী জানান, চারটি গ্রামের বাসিন্দাদের বর্ষায় নৌকা, না হয় বাঁশের চাটাই দিয়ে সেতু নির্মাণ করে চলাচল করতে হয়। জনস্বার্থে এখানে সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।
জনদুর্ভোগ লাঘবের জন্য দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবি জানান তিনি।
তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এই বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাব।’



