মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জে চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশায় ভুগছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচের তুলনায় অর্ধেকেরও কম দামে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এতে চলতি মৌসুমেও লোকসানের আশঙ্কা করছেন জেলার চাষিরা।
জেলার ছয়টি উপজেলায় এখনো আলু উত্তোলনের ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কিন্তু এই মৌসুম যেনো তাদের জন্য উৎসবের বদলে দুঃশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাঠে ভালো ফলন হলেও পাইকারের অভাবে অনেকেই আলু বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে কম দামে আলু বিক্রি করছেন।
জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে। তবে মাঠ পর্যায়ে পাইকারি দরে কৃষক পাচ্ছেন মাত্র সাত থেকে আট টাকা। অথচ প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ পড়েছে ১৫ থেকে ১৭ টাকা। এতে করে উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না অধিকাংশ কৃষক।
লৌহজং উপজেলার কলমা গ্রামের কৃষক নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘আট কানি জমিতে আলু চাষ করতে প্রায় ১৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু এখনো যে দামে আলু বিক্রি হচ্ছে, তাতে ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করবো বুঝতে পারছি না।’
সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের দক্ষিণ চরমশুরা গ্রামের কৃষক মো: নুরনবী মুন্না বলেন, ‘২৪০ শতাংশ জমিতে আলু আবাদ করতে দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু পাইকারদের কাছে এক মন আলু বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৩০০ টাকায়। এতে উৎপাদন খরচের অর্ধেকও উঠছে না। তার ওপর জমিতে পাইকারও পাওয়া যাচ্ছে না।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় আলু আবাদ হয়েছে ৩৪ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সামান্য বেশি। এ জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে নয় লাখ ৭৫ হাজার ৫৩৮ দশমিক ২৫ টন। ইতোমধ্যে দুই হাজার ৬৫২ হেক্টর জমির আলু উত্তোলন সম্পন্ন হয়েছে।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো: তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে কৃষক পর্যায়ে আলুর দাম কিছুটা বেশি, প্রায় ১১ টাকা কেজি। পাইকারি পর্যায়ে ১৩ থেকে ১৪ টাকা এবং খুচরা বাজারে ১৫ থেকে ১৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সামনে দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে উদ্যোগ নেয়া হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।’
তিনি আরো বলেন, ‘উৎপাদন খরচ কমাতে কৃষকদের সার ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে কৃষকরা কিছুটা লাভবান হতে পারেন বলে আশা করা যাচ্ছে।’
তবে কৃষকদের দাবি, দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়া আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। না হলে ধারাবাহিক লোকসানে কৃষকরা আলু চাষে আগ্রহ হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।



