পুকুরে প্রস্ফুটিত টগরফুল, প্রকৃতির নীরব সৌন্দর্যে মুগ্ধ পথচারীরা

পুকুর ভর্তি টগরফুলে এক ধরনের প্রাকৃতিক বেষ্টনী তৈরি করেছে। ফুল ফুটলে পুরো এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এক ধরনের স্নিগ্ধ সৌন্দর্য। বিশেষ করে ভোরবেলা শিশির ভেজা ফুল আর বিকেলের কোমল আলো পুকুরপাড়ের পরিবেশকে করে তোলে আরো আকর্ষণীয়।

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

Location :

Jhalokati
ভোরের আলোয় টগর ফুল
ভোরের আলোয় টগর ফুল |নয়া দিগন্ত

ভোরের নরম আলো ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে পুকুরের জলে ভাসমান কচুরীপানার উপরে। হালকা বাতাসে দুলতে থাকে সবুজ পাতার ফাঁকে মাথা জাগিয়ে ফুটে থাকা মনোমুগ্ধকর টগরফুল। পুকুরের স্বচ্ছ পানির ওপরের কচুরীপানায় প্রতিফলিত হয় সাদা ফুলের সারি, যেন প্রকৃতির নিজস্ব আঁকা এক নীরব চিত্রপট। শহরের ব্যস্ততার মাঝেও এমন স্নিগ্ধ পরিবেশ মুহূর্তেই মনকে প্রশান্ত করে তোলে।

এমনই মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের দেখা মিলছে ঝালকাঠি শহরের নতুন কলেজ রোডের ডায়াবেটিক হাসপাতালের দক্ষিণ পাশের পুকুরে। পুকুরটির শান্তজল ঢেকে দিয়েছে টগরে। তা এখন সাদা ফুলে ভরে উঠেছে। সবুজ পাতার ফাঁকে ফুটে থাকা শুভ্র টগর ফুল দূর থেকেই পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পানির ওপরে ভাসমান থেকেও যেন নিজের অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পুকুরপাড়ে দাড়িয়ে কেউ একটা ছবি তুলছে আবার কেউ গ্রুপভিত্তিক ছবিও তুলছে। এছাড়াও অনেক পথচারী ফুলের আনিন্দ্য সৌরভে মুগ্ধ হয়ে সেলফি তুলছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানায়, ডায়াবেটিক হাসপাতাল এলাকায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, তাদের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই পুকুরপাড় দিয়ে যাতায়াত করেন। অনেকেই কিছু সময়ের জন্য থেমে প্রকৃতির এই সৌন্দর্য উপভোগ করেন। কেউ কেউ আবার মোবাইল ফোনে ছবি তুলে রাখেন স্মৃতি হিসেবে।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগেও পুকুরপাড়টি ছিল সাধারণ একটি জায়গা। তেমন কোনো সৌন্দর্যবর্ধন ছিল না। তবে ধীরে ধীরে এখানে টগর গাছগুলো বড় হয়ে এখন পুরো এলাকাকে করে তুলেছে দৃষ্টিনন্দন। পুকুর ভর্তি টগরফুলে এক ধরনের প্রাকৃতিক বেষ্টনী তৈরি করেছে। ফুল ফুটলে পুরো এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এক ধরনের স্নিগ্ধ সৌন্দর্য। বিশেষ করে ভোরবেলা শিশির ভেজা ফুল আর বিকেলের কোমল আলো পুকুরপাড়ের পরিবেশকে করে তোলে আরো আকর্ষণীয়।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী আবুল কালাম বলেন, ‘চিকিৎসার ব্যস্ততা বা মানসিক চাপের মধ্যেও এই পুকুরপাড়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে মন অনেকটাই হালকা হয়ে যায়। প্রকৃতির এমন শান্ত পরিবেশ তাদের মানসিক স্বস্তি এনে দেয়।’

স্থানীয় পথচারী ইসরাত জাহান রিপা বলেন, ‘প্রতিদিন এই পুকুর পাড়ের রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করি। পুকুর পাড়ে টগর ফুলগুলো ফুটে থাকতে দেখলে মনটা ভালো হয়ে যায়। শহরের কোলাহলের মাঝেও এমন দৃশ্য সত্যিই অনেক শান্তি দেয়।’

পুকুরের প্রতিবেশী খান জাহান রিমন বলেন, ‘পুকুরটির পরিবেশ নয়নাভিরাম ও মনোরম। এটা দেখে কবি রবীন্দ্রনাথের অতিপরিচিত একটি বাক্য স্মরণ করে তিনি বলেন,

‘দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া

ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া

একটি ধানের শিষের উপরে

একটি শিশির বিন্দু’...

উদ্ভিদপ্রেমীদের মতে, টগর একটি চিরসবুজ শোভাবর্ধনকারী জলজ উদ্ভিদ। এটি সাধারণত উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং কোনো পরিচর্যা ছাড়াই প্রায় সারাবছর ফুল ফোটে।

প্রকৃতিপ্রেমী ইসমাঈম মুসাফির বলেন, ‘পুকুরপাড়ে ফুটে থাকা সাদা টগর ফুল তাই শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়ায় না—এটি মানুষের মনেও ছড়িয়ে দেয় এক টুকরো শান্তি ও প্রশান্তির অনুভূতি। ব্যস্ত শহরে জীবনের মাঝেও এমন একটি দৃশ্য অনেকের কাছে হয়ে উঠেছে স্বস্তির ছোট্ট আশ্রয়।

ঝালকাঠি গাছপালা নদী-নালা রক্ষা আন্দোলন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো: আক্কাস সিকদার বলেন, ‘শহরের বিভিন্ন খোলা জায়গা, পুকুরপাড়, রাস্তার ধারে, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে একটি ছোট ফুলগাছও একটি এলাকার সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই আরো বেশি করে ফুলের গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে, অন্যদিকে শহরের সৌন্দর্যও বাড়বে।’