অধিকার প্রতিষ্ঠায় দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে : সেলিম উদ্দিন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, ‘কল্যাণ রাষ্ট্রের অনুপস্থিতির কারণে জনগণ রাষ্ট্রের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত। তাই সমাজে ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠাসহ নাগরিকের সব অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করতে দেশকে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার কোনো বিকল্প নেই।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন

Location :

Dhaka
খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন
খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, ‘কল্যাণ রাষ্ট্রের অনুপস্থিতির কারণে জনগণ রাষ্ট্রের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত। তাই সমাজে ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠাসহ নাগরিকের সব অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করতে দেশকে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার কোনো বিকল্প নেই।’

রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর তুরাগ থানাধীন বামনারটেক এলাকার অলি মাদবর বাড়ির বস্তিতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের মাঝে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্দশা লাঘব ও পুনর্বাসনে সরকার, রাজনৈতিক দল, সরকারি-বেসরকারি দাতা সংস্থাসহ সমাজের বিত্তবান মানুষদের খোলা মন নিয়ে মুক্ত হস্তে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘আর্ত-মানবতার কল্যাণ ও মুক্তিই জামায়াতের রাজনীতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। আমরা মানুষের কল্যাণে কাজ করাকে ইবাদত হিসাবে মনে করি। দেশ ও জাতির যেকোনো ক্রান্তিকালে জামায়াত নিজেদের সব সামর্থ্য উজাড় করে দিয়ে জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমাদের সাধ অনেক হলেও সাধ্য খুবই সীমিত। তারপরও বিপদ-আপদে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও ঈমানি দায়িত্ব মনে করি। সে দায়িত্বানুভূতি থেকেই আমরা আজ সামান্য হাদিয়া নিয়ে আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। এতে ন্যূনতম কেউ উপকৃত হলে আমাদের শ্রম সার্থক হয়েছে বলে মনে করব।’

তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে স্ব স্ব অবস্থান থেকে সাধ্যমতো ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘বিপদ-আপদ আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। মূলত, বিপদ-আপদ ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতির মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের পরীক্ষা গ্রহণ করেন। তাই যেকোনো বিপদে ভেঙে পড়লে চলবে না বরং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে সবর ও নামাজের মাধ্যমে আগামী দিনের করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। আল্লাহ সবরকারীদের সাথেই থাকেন।’

তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে সরকারের উদাসীনতা প্রসঙ্গে বলেন, ‘নাগরিকের যেকোনো আপদকালীন সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কিন্তু তুরাগের আগুনের ঘটনার পর সরকারের তেমন কোনো তৎপরতা নেই। মূলত, কল্যাণ রাষ্ট্রের অনুপস্থিতির কারণে জনগণ রাষ্ট্রের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত।’

তিনি সে শান্তির সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালানোর আহ্বান জানান।

তুরাগ মধ্য থানা জামায়াতের আমির গাজী মনির হোসাইনের সভাপতিত্বে ও নায়েবে আমির কামরুল হাসানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিল প্রার্থী অ্যাডভোকেট সুরুজ্জামান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর প্রার্থী জয়নব বেগম, জামায়াত নেতা মাওলানা ওয়ারেস আলী মুরাদ, জুলফিকার আলী, মাঈন উদ্দিন, সাইদুর রহমান ও ওলিদ প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ কেজি চাল, ১৫ কেজি অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী এবং নতুন কাপড় ও লুঙ্গি প্রদান করা হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি